গারো পাহাড়ে গাছ লুটপাটের মহোত্সব

আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর ২০১৭, ১১:৪০
 
উপজেলার গারো পাহাড়ে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে বৃক্ষ লুটপাটের মহোৎসব চলছে। বনদস্যুরা প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা মূল্যের শাল, গজারিসহ বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষ লুটপাট করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করে আসছে। প্রতিকারের উদ্যোগ না থাকায় বন উজাড় হওয়ার পাশাপাশি প্রাণ বৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়ছে। 
 
অভিযোগ রয়েছে বন বিভাগের এক শ্রেণির অসাধু বন কর্মকর্তা কর্মচারীর নেতৃত্বে সামাজিক বনায়নের অংশীদার ও বন দস্যুদের দিয়ে প্রথমে বনের গাছ কাটানো হচ্ছে। পরে তা আটক দেখিয়ে অফিসে সংরক্ষণ এবং সুযোগ বুঝে নিলামের অুজহাতে তা বিক্রি করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে অনেক সময় বনের খাড়া গাছ ফিতা দিয়ে ঘনফুট মেপে তা বিক্রি করে দেয়া হচ্ছে। গজনী ফরেস্ট বিট কর্মকর্তা আব্দুর রফিক এ বিটে যোগদানের পর থেকে এখানে চলছে বৃক্ষ লুটপাটের মহোত্সব। উপজেলা সদর বাজারসহ বিভিন্ন হাট বাজারগুলোতে অবাধে বিক্রি হচ্ছে এসব চোরাই কাঠ। বিভিন্ন সময় সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীর নাম ভাঙিয়েও পাচার করা হচ্ছে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের কাঠ। 
 
অপরদিকে, শেরপুর জেলা সদরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের ইট-ভাটাগুলোতে কয়লার পরিবর্তে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে কাঠ। আর এসব জ্বালানি সংগ্রহ করা হচ্ছে গারো পাহাড়ের বনাঞ্চল থেকে। সরেজমিনে অনুসন্ধানে গিয়ে দেখা গেছে, সংরক্ষিত বনাঞ্চলের তাওয়াকুচা, গুরুচরন দুধনই, পানবর, ছোট গজনী, হালচাটি, বাকাকুড়া, গান্ধিগাঁও, নওকুচি, রাংটিয়া, সন্ধ্যাকুড়াসহ বিভিন্ন স্থানে অর্ধশতাধিক পাল্লা ঝুলিয়ে অবাধে বিক্রি হচ্ছে চোরাই কাঠ। বনের বৃক্ষ নিধনের পাশাপাশি বন দস্যুরা নিলামে বিক্রি করা বাগানের গাছের গুড়িগুলো উত্পাটন করে তা মণ দরে বিক্রি করে আসছে। কাঠ ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি মণ জ্বালানি কাঠ বিক্রি করা হচ্ছে ১শ’ থেকে ১শ’ ২০ টাকা দরে। এছাড়া পুরো গারো পাজাড়ে চরছে কাঠ পুড়ে কয়লা তৈরির ধুম। পাহাড়ের বিভিন্ন স্থানে গর্ত করে কাঠ পুড়ে অবাধে তৈরি হচ্ছে কয়লা। এতে পুরো গারো পাহাড় ক্ষত বিক্ষত হয়ে পড়ার পাশাপাশি ভূমি ধ্বসের সৃষ্টি হয়েছে। এভাবে পুরো পাহাড়ে চলছে লুটপাট ও ধ্বংসযজ্ঞ। এসব দেখার যেন কেউ নেই। এসব লুটপাটের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। আবার কেউ প্রতিবাদ করতে গেলে তার উপর নেমে আসে বন দস্যুদের হামলা ও বন বিভাগের মিথ্যা মামলা। এ কারণে কেউ মুখ খুলেন না। এ সুবাদে দীর্ঘদিন থেকে পুরো গারো পাহাড়ে চলছে লুটপাট ও ধ্বংসযজ্ঞ। এতে এক দিকে যেমন বন উজাড় হচ্ছে। অপরদিকে প্রাণ বৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। সরকার বঞ্চিত হচ্ছে বিপুল পরিমাণে রাজস্ব আয় থেকে। 
 
এ বিষয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাদশা ও মালিঝিকান্দা ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম তোতার সাথে কথা হলে তারা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, গারো পাহাড়ের বৃক্ষ লুটপাট নিয়ে আইন শৃঙ্খলার কমিটির সভায় বিভিন্ন সময় আলোচনাও হয়েছে। কিন্তু এর কোন প্রতিকার হয়নি। এ বিষয়ে রাংটিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুনের সাথে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।
 
ইত্তেফাক/এএম।