চাটমোহরে শিশু হত্যাচেষ্টার লিখিত অভিযোগ

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০১৯, ১৬:২৫

পাবনার চাটমোহরে পাশবিক নির্যাতনের শিকার ৬ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে মর্মে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার মুলগ্রাম ইউনিয়নের শাহপুর গ্রামে। এ ব্যাপারে শুক্রবার (১২ এপ্রিল) ওই শিশুর পিতা ইসরাফিল হোসেন চাটমোহর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। 

শিশুটির পিতার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, পাশবিক নির্যাতনের মামলা দায়ের ও পূর্ব শত্রুতার জের ধরে বৃহস্পতিবার দুপুরে চাঁদ আলীর মা লিলি বেগ, বোন মুক্তি খাতুন ও কেয়া খাতুন শিশুটিকে ফুসলিয়ে তাদের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে পরনের হাফ প্যান্ট খুলে গলা টিপে ধরে হত্যার চেষ্টা করে। শিশুটির চিৎকারে লোকজন এগিয়ে এলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
     
উল্লেখ্য, উপজেলার মুলগ্রাম ইউনিয়নের শাহপুর গ্রামের ইসরাফিল হোসেনের শিশু কন্যা, শাহপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির ছাত্রী লামিয়া খাতুনকে গত ১৮ মার্চ পাশবিক নির্যাতন করে একই গ্রামের কোমর আলীর ছেলে চাঁদ আলী (১৬)। ২০ মার্চ সকালে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় শিশুটির নানা বাদী হয়ে চাটমোহর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এদিকে শিশুটির বাবা-মা দু’জনেই ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। খবর পেয়ে কর্মস্থল থেকে তারা বাড়িতে আসেন।

শিশুটির বাবা ইসরাফিল হোসেন অভিযোগ করেন, স্বামী-স্ত্রী পোশাক কারখানায় একসঙ্গে কাজ করার কারণে মেয়েকে নানার বাড়ি রেখেছেন। চাটমোহর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দিন (১৮ মার্চ) বাড়িতে লোকজন কম থাকায় মেয়েকে খেলনা বানিয়ে দেওয়ার কথা বলে প্রতিবেশি চাঁদ আলী তাদের বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে শোবার ঘরে নিয়ে গিয়ে মুখ চেপে ধরে পাশবিক নির্যাতন চালায় এবং এই কথা কাউকে বললে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এরপর শিশুটির রক্তক্ষরণ শুরু হলে সে নানা-নানীকে বিষয়টি খুলে বলে। পরে স্বজনরা তাকে চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। 

এদিকে, ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে চাঁদ আলী। পাশবিক নির্যাতনের শিকার শিশুটি হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে যন্ত্রণায় ছটফট করেছে। মাঝে মধ্যেই ভয়ে আঁতকে উঠেছে। এখনও শিশুটি ভয়ে আতঙ্কিত। ঘটনার পর নানা আলোচনা শুরু হলে ঘটনার ৩দিন পর পুলিশ মামলা গ্রহণ করে। এরপরই শিশুটির ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়। ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জবানবন্দীও প্রদান করে।
 
এই ঘটনার পর শিশুটিকে হত্যার অপচেষ্টা করে চাঁদ আলীর মা-বাবাসহ অন্যরা। শিশু লামিয়ার সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিনিধির। শিশুটি ভয়ে ভয়ে বলে মুক্তি তাকে ধরে নিয়ে যায় এবং প্যান্ট খুলে মারধর করে।

আরো পড়ুন: জয়পুরহাটে বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে, শিশুসহ নিহত ৮

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা থানার এসআই শরিফুল ইসলাম জানান, ১৮ মার্চে পাশবিক নির্যাতনের ঘটনার পর ২১ মার্চ থানায় মামলা দায়ের হয়েছে এবং অভিযুক্ত চাঁদ আলীকে ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। শিশুটির ডাক্তারি পরীক্ষায় নির্যাতনের আলামত পাওয়া গেছে। ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জবানবন্দী দিয়েছে। এরমধ্যেই বৃহস্পতিবার আসামি পক্ষের লোকজন দ্বারা শিশুটিকে মারার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শরিফুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পাওয়া গেছে। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, আগের ঘটনার আসামি পলাতক। পুলিশ তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করছে।

ইত্তেফাক/এমআই