সোমবার সারাদেশে স্বাস্থ্য সহকারী চার দফা দাবি আদায়ে কর্মবিরতি পালন করেছে। ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর
মাদারীপুর: বাংলাদেশ হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশন মাদারীপুরের আহ্বানে সোমবার থেকে কর্মবিরতি পালন শুরু হয়েছে। চার দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য এ কর্মবিরতি আহ্বান করা হয়েছে। ২৬টি ইউনিয়নের ৭৮টি ওয়ার্ড বন্ধ ছিল কর্মবিরতি চলাকালীন। দাবিগুলো হলো- বেতন স্কেলসহ টেকনিক্যাল পদমর্যাদা মূল বেতনের ৩০% মাঠ/ভ্রমণ ভাতা ও ঝুঁকি ভাতা, ৬ হাজার মানুষের জন্য ১ জন করে স্বাস্থ্য সহকারী ও দ্রুত শূন্যপদে নিয়োগ এবং ১০% পোষ্য কোটা।
মেহেরপুর: ট্যাকনিকেল পদমর্যাদাসহ চার দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সারা দেশের ন্যায় মেহেরপুরে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি পালন করছে। এতে নেতৃত্ব দেন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি তোফাজ্জেল হোসেন। উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনসহ জেলার সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী।
জামালপুর: সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে কর্মবিরতী উপলক্ষে প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শন সিরাজুল ইসলাম, স্বাস্থ্য সহকারী দুলাল উদ্দিন, আরিফ তরফতার, জহুরুল ইসলাম, বিপুল আহমেদ, নয়ন মিয়া, আরিফ হোসেন, সাইফুল, মো. শহীদ প্রমুখ। জেলায় ৪৫০ জন স্বাস্থ্য সহকারীদের কর্মবিরতীর ফলে প্রতিদিন ২০৪টি কেন্দ্রে গড়ে পাঁচ হাজার শিশু ও তিন হাজার গর্ভবতী মহিলা তাদের টিকা কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
আগৈলঝাড়া (বরিশাল): কেন্দ্রীয় নির্দেশের অংশ হিসেবে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় স্বাস্থ্য সহকারীদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে হাসপাতালের সামনে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্ম বিরতি শুরু করেছে স্বাস্থ্যকর্মীরা।
১৯৯৮ সালের ৬ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণার বাস্তবায়নের দাবিতে টেকনিক্যাল পদমর্যাদাসহ বেতন স্কেল, মাঠ/ভ্রমণ ভাতা ও ঝুঁকি ভাতা মূল বেতনের ৩০%, প্রতি ছয় হাজার জনগোষ্ঠীর জন্য একজন স্বাস্থ্য সহকারী নিয়োগ এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে শন্য পদে নিয়োগ এবং ১০% পোষ্য কোটা প্রবর্তনের চার দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এ আন্দোলন চলছে।
মুলাদী (বরিশাল): দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মবিরতি চলবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য সহকারীরা।
কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ): স্বাস্থ্য কেন্দ্র চত্বরে স্বাস্থ্য সহকারীরা একত্রিত হয়ে সমাবেশের মাধ্যমে কর্মবিরতি পালন করেন। কর্মবিরতি সমাবেশে হাফিজুর রহমান মৃধা, ফেরদাউস শেখ, নির্মল কান্তি বিশ্বাস, মন্মথ বিশ্বাস, সিরাজ কাজী বক্তব্য রাখেন।
নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া): ‘টেকনিক্যাল কাজ করি টেকনিক্যাল বেতন স্কেল চাই’ শ্লোগান নিয়ে নাসিরনগরে পদমর্যাদাসহ চার দফা দাবি অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি পালন করছে।
মহেশপুর (ঝিনাইদহ): স্বাস্থ্য সহকারী অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে এ কর্মবিরতি পালন করা হয়। অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কুতুব উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মবিরতিতে বক্তব্য রাখেন, স্বাস্থ্য সহকারী আব্দুল মান্নান, সোহেল রানা, নজরুল ইসলাম, মুসলিম উদ্দিন প্রমুখ।
মুরাদনগর (কুমিল্লা): স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে মানববন্ধনের মাধ্যমে কর্ম বিরতি পালন করে স্বাস্থ্য সহকারী সংগঠন। বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশনের কুমিল্লা জেলার সহ-সভাপতি এনামুল হক, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ
নগরকান্দা (ফরিদপুর): স্বাস্থ্য সহকারীরা কাজ বন্ধ করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চত্বরে সমাবেশ করে। সমাবেশে বক্তব্য দেন অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি আসাদুজ্জামান, নগরকান্দা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সাগর হোসেন, সহ-সভাপতি মশিউর রহমান, সালথা উপজেলার সভাপতি তারিকুল ইসলাম, তিরানা আক্তার প্রমুখ।
নিকলী (কিশোরগঞ্জ): এসোসিয়েশনের নিকলী উপজেলা শাখার সভাপতি মো. মশিউর রহমান ভুঁইয়াসহ উপজেলার ৩৩ জন স্বাস্থ্য সহকারী অংশ নেয়।
ত্রিশাল (ময়মনসিংহ): টেকনিক্যাল কাজ করি টেকনিক্যাল বেতন স্কেল চাই— এই শ্লোগানকে সামনে রেখে দিনব্যাপী কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন করেছে। এ সময় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাসোসিয়েশন ত্রিশাল শাখার সভাপতি মতিউর রহমান পারভেজ, সহ-সভাপতি মুর্শিদা তানজিন, সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা, সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুজ্জামান, মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা ফাতেমা আক্তার, জেলা কমিটির সদস্য জিন্নাতুন নাহার লাকী প্রমুখ।
শিবপুর (নরসিংদী): সারাদেশের ন্যায় পৌরসভা ও উপজেলার ৩৪ জন স্বাস্থ্য সহকারী নিজ নিজ কর্মস্থলে না গিয়ে কর্মবিরতি পালন করছেন।
মদন (নেত্রকোনা): স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এর সামনে কর্মবিরতি পালন করার সময় বক্তব্য রাখেন অ্যাসোসিয়েশনের শাখা সভাপতি এনামুল হায়দার, সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবীব, সাধারণ সম্পাদক খায়রুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক হুসাইন এরশাদ, দপ্তর সম্পাদক আবু নাছের সিদ্দিকী প্রমুখ।
মীর্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী): কেন্দ্রীয় দাবি বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদের নির্দেশে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের এ কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে। দাবি বাস্তবায়ন কমিটির উদ্যোগে মহাপরিচালকে মীর্জাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার নিকট একখানা স্মারক লিপি প্রদান করা হয়েছে।
কালিহাতী (টাঙ্গাইল): উপজেলার স্বাস্থ্য সহকারী ও ইপিআই কর্মচারীবৃন্দ হাসপাতাল প্রাঙ্গণে তাদের প্রথম কার্যক্রম। স্বাস্থ্য সহকারীদের পক্ষে নেতৃত্ব দেন মো. ফজলুর রহমান এবং ইপিআই প্রোগ্রামের পক্ষে নেতৃত্ব দেন দীপক রঞ্জন সরকার।
বানারীপাড়া (বরিশাল): উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন উপজেলার ২৪ জন স্বাস্থ্য সহকারী এ কর্ম বিরতি শুরু করেন। এসময় অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আকতার ফারুকের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক খায়রুল ইসলাম সোহেল, প্রচার সম্পাদক জাকির হোসেন, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক সেলিনা আক্তার প্রমুখ।
ডামুড্যা (শরীয়তপুর): একটি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়ন এবং ২৪টি ওয়ার্ড স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে কর্ম বিরতি পালন করে।
হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ): স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে কর্মবিরতি পালনের সময় বক্তব্য রাখেন অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি মো. আবুল কাশেম, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারিক, সাংগঠনিক সম্পাদক মোশারফ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ শাহীনুল ইসলাম, মাহফুজা আক্তার, গীতা রানী শীল প্রমুখ।
পূর্বধলা (নেত্রকোনা): স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে তারা এই কর্মসূচি শুরু করে। পূর্বধলা উপজেলা শাখার উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। ২৬৪টি টিকাদান কেন্দ্রে স্বাস্থ্য সেবা বন্ধ রয়েছে। ৫৪ জন স্বাস্থ্য সহকারী স্বাস্থ্যসেবাদান থেকে বিরত রয়েছেন।
রায়পুরা (নরসিংদী): ২৪টি ইউনিয়নের ৭২ জন স্বাস্থ্য সহকারী এ কর্মসূচি পালন করে। অস্থায়ী ৭২টি টিকাদান কেন্দ্রের ২৪টি বন্ধ ছিল। এসব টিকাদান কেন্দ্র বন্ধ থাকার ফলে ৮টি ইউনিয়নের প্রায় ৬ শতাধিক নবজাতক শিশু ও মা টিকা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হন।
ইত্তেফাক/নূহু
