আলুর দাম পড়ে গেলেও উৎপাদিত আলু বিক্রি করে আশানুরূপ লাভের মুখ দেখছেন দিনাজপুরের ফুলবাড়ির আলু চাষিরা। ক্ষেত থেকে নতুন আলু তোলার আনন্দ আর আশানুরূপ লাভ পাওয়ায় আলু চাষিদের চোখেমুখে হাসির ঝিলিক দিচ্ছে। বর্তমানে চাষিরা ক্ষেতের আলু তুলতে কাক-ডাকা ভোর থেকে সন্ধ্যা অবধি ব্যস্ত সময় পারছেন আলু ক্ষেতে।
উপজেলা কৃষি দফতর সূত্রে জানা যায়, চলতি আলু চাষ মৌসুমে উপজেলার আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ হাজার ৫০ হেক্টর জমি। কিন্তু চাষ হয়েছে ২ হাজার ১৫ হেক্টর জমিতে।গত বছরের চেয়ে ৩৫ হেক্টর কম জমিতে আলু চাষ হয়েছে এ বছর। ২ হাজার ১৫ হেক্টরের মধ্যে উচ্চ ফলনশীল জাতের ১হাজার ৮০০হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের ২০০ হেক্টর রয়েছে। উচ্চ ফলনশীল জাতের মধ্যে কার্ডিনাল ৩৫০হেক্টর, গ্রানুলা ৪০০ হেক্টর, স্টেরিক ৩৫০ হেক্টর ও রোমানা ৪০০ হেক্টর রয়েছে। উচ্চ ফলন শীল জাতের আলুর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি হেক্টরে সাড়ে ১৮ থেকে ২০ মেটিক টন এবং স্থানীয় জাতের সাড়ে ৮ থেকে ১০মেট্রিক টন।
উপজেলার গঙ্গপ্রসাদ গ্রামের অলুচাষি শফিকুল ইসলাম বলেন, এ বছর ৩ বিঘা জমিতে উচ্চ ফলনশীল রোমানা জাতের আলু চাষ করেছেন। এতে তার খরচ হয়েছে ১লাখ ১৫হাজার টাকা। তবে উৎপাদিত আলু বিক্রি হয়েছে দেড় লাখ টাকায়। এতে তার লাভ হয়েছে ৩৫হাজার টাকা। ক্ষেতের উৎপাদিত আলু বিক্রি নিয়েও তাদেরকে কোন দুশ্চিন্তায় পড়তে হচ্ছে না। কারণ পাইকাররাই সাড়ে ১৭ টাকা কেজি দরে ক্ষেত থেকেই আলু কিনে নিয়ে যাচ্ছে। এতে তাদের বাড়তি কোন ব্যয় হচ্ছে না। আলু ওঠার পরপরই একই জমিতে কোমর বেধে নেমে পড়বেন ভুট্টা চাষে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এটিএম হামীম আশরাফ বলেন, উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে সামান্য কম জমিতে আলু চাষ হলেও প্রাকৃতিক কোন বিপর্যয় না থাকাসহ অনুকূল পরিবেশের কারণে এ বছর আলুর উৎপাদন আগের চেয়ে অনেক ভালো হয়েছে। এতে করে চাষিরা আশানুরূপ লাভের মুখ দেখছেন। তবে আগাম-ভাবে যারা আলু চাষ করেছিলেন তারা ইতোমধ্যে ক্ষেতের আলু তুলে নিয়ে সেই জমিতে এখন ভুট্টা চাষের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। কারণ আলুর ক্ষেতে ভুট্টা চাষ করলে সেখানে সার ও কীটনাশক ওষুধ লাগে অনেক কম এবং ফলন হয় অনেক ভালো।
ইত্তেফাক/জামান
