রায়পুরায় যৌতুক না পেয়ে গৃহবধূর মাথা ন্যাড়া

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০১৮, ১৭:০৫
 
যৌতুক দিতে অস্বীকার করায় অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে দুই সন্তানের জননী অথরা আক্তার সুমী। স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যরা সুমীকে পিটিয়ে তার মাথার চুল কেটে দিয়েছে, সিগারেটের আগুন দিয়ে সারা শরীর পুড়িয়ে দিয়েছে। 
 
গত ৩০ ডিসেম্বর রায়পুরা উপজেলার জাহাঙ্গীরনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে গত সোমবার রাতে সুমী রায়পুরা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। 
 
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ থেকে জানা গেছে, একই উপজেলার সাহারখোলা গ্রামের  বাহার উদ্দিনের কন্যা অথরা আক্তার সুমীকে জাহাঙ্গীরনগর গ্রামের আবুল হাশেমের পুত্র কবির হোসেন বিয়ে করেন। কবির ও সুমীর দাম্পত্য জীবনে আবির (৪) ও সাব্বির (২) নামে দুটি পুত্র সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই কবির যৌতুক দাবি করে আসছিল। সুমী তার পিতার কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা এনে স্বামীর হাতে তুলে দেন। এরপর আরো টাকা এনে দেয়ার জন্য সুমীকে চাপ দিতে থাকেন কবির।  টাকা দিতে অস্বীকার করায় ৩০ ডিসেম্বর কবির হোসেন তাকে মারধোর করেন। সুমী এর প্রতিবাদ করলে তার স্বামী কবির, শাশুড়ি হালিমা বেগম ও ননদ পারভীন তাকে মারধর করেন। এক পর্যায়ে কবির হোসেন কেচি দিয়ে সুমীর মাথার চুল কেটে দেয় ও সিগারেট দিয়ে তার ডান ও বাম হাতে ছ্যাঁকা দেয়। এ সময় সুমীর চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এসে সুমীর পিতাকে খবর দেন। পরে সুমীর পিতা তাকে রায়পুরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন। সুস্থ হয়ে সোমবার রাতে সুমী রায়পুরা থানায় গিয়ে স্বামী কবির হোসেন, শ্বশুর-শাশুড়ি ও দেবর-ননদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
 
 
ইত্তেফাক/ইউবি