স্বপ্নপূরণ করতে পারবেন কী শাহীন

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০১৮, ২২:১১
 
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ভর্তির সুযোগ পেয়েও অর্থের অভাবে লেখাপড়া বন্ধের পথে শাহীনের। শাহীনের পুরো নাম মো. শাহীন রেজা। তিনি সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল গ্রামের মৃত আব্দুল কুদ্দুসের ও মোছা. সামসুন্নাহারের ছেলে। 
 
নিজ প্রচেষ্টায় শাহীন ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে জাবির সি-ইউনিটে কলা ও মানবিকী অনুষদে মেধা তালিকায় ১২৩তম স্থান অর্জন করে ইতিহাস বিভাগের জন্য মনোনীত হন। 
 
একই শিক্ষাবর্ষে রাবিতে এ-ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে মেধা তালিকায় ৮৯তম স্থান এবং ডি-ইউনিটে বাণিজ্য অনুষদের অধীনে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে মেধা তালিকায় ২২তম স্থান অর্জন করে ফাইন্যান্স বিভাগে মনোনীত হন। সাফল্য অর্জন করলেও অর্থাভাবে বন্ধের পথে শাহীনের লেখাপড়া। 
 
তিনি জামতৈল ধোপাকান্দি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১১ সালে জেএসসি পরীক্ষা ও ২০১৪ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে গোল্ডেন জিপিএ-৫ লাভ করে বৃত্তি প্রাপ্ত হন। সেই সাথে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের আর্থিক সহযোগিতায় লেখাপড়া চলছিল। কিন্তু ২০১৬ সালে এইচএসসি পরীক্ষার আগে জন্ডিস ও টাইফয়েড থাকায় তার পরীক্ষা খারাপ হওয়ায় ফলাফল দাঁড়ায় জিপিএ-৪ দশমিক ৫৮। যার কারণে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের আর্থিক সহযোগিতা থেকে ছিটকে পরে এই অদম্য মেধাবী। 
 
শাহীনের মা মোছা. সামসুন্নাহার বলেন, শাহীনের বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে আমার দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে খুব কষ্টে খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করছি। শাহীনকে এতোদিন খুব কষ্ট করে লেখপড়া করিয়েছি। কিন্তু বর্তমান সংসারের যে অবস্থা তাতে লেখাপড়া করাবো কি সংসারই চলছে না। 
 
শাহীন বলেন, আমার খুব ইচ্ছা লেখাপড়া করে মানুষের মতো মানুষ হয়ে দেশ ও জনগণের পাশে দাঁড়াব। অর্থের অভাবে লেখাপড়া নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় রয়েছি। 
 
ডাচ-বাংলা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ও দেশ-বিদেশের কোনো সুহৃদ ব্যক্তি যদি শাহীনকে আর্থিক সাহায্য করে তার পাশে দাঁড়ান তাহলে হয়তো একদিন সে তার স্বপ্ন পূরণ করে মানুষের মতো মানুষ হয়ে দেশ ও জনগণের পাশে দাঁড়াবে। শাহীনের ডাচ-বাংলা ব্যাংক বৃত্তির সিরিয়াল নম্বর-১৭৯৮ (এসএসসি-২০১৪)। শাহীনের মায়ের সাথে যোগাযোগের জন্য-০১৭০০৬৬৭৪৪৪।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি