নিকলীতে ফসলি জমির মাটি বিক্রি হচ্ছে ইটভাটায়

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০১৮, ০২:৫৭

নিকলী উপজেলায় তিনটি ইটভাটায় ইট তৈরির জন্য চলছে বোরো ফসলি জমির মাটি বেচা-কেনা। অভাবি কৃষকরা এ মাটি বিক্রি করছেন। আর এ কারণে জমির উর্বরতা শক্তি কমে যাচ্ছে। এতে ফসল উত্পাদন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জমির উর্বরতা শক্তি মাটির ওপর থেকে ১৫-২০ ইঞ্চির মধ্যে থাকে। তাই ওপর থেকে মাটি সরিয়ে ফেলায় জমির উর্বরতা শক্তি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় ধরে সে জমির ওপর বিভিন্ন পদার্থ জমে উর্বরতা শক্তি ফিরে আসতে শুরু করে। এভাবে আগের মতো উর্বরতা জৈব শক্তি ফিরে পেতে কমপক্ষে ১০-১৫ বছর সময় লাগে।

উপজেলার সদর ইউনিয়নের কুর্শা হাওর, জারুইতলা ইউনিয়নের বড় হাওর ও গুরুই ইউনিয়নের ছেত্রা হাওরে শীত মৌসুম থেকেই শুরু হয়েছে ফসলি জমির মাটি বিক্রি। আবাদি জমির মাটি ওপরের অংশ ১০ থেকে ১৫ ফুট গর্ত করে একসেলটর মেশিন দিয়ে কেটে নেওয়া হচ্ছে। এক শ্রেণির ব্যবসায়ী এ মাটি অভাবি কৃষকদের কাছ থেকে কিনে ইটভাটায় নিচ্ছে।

জারুইতলা ইউনিয়নের ধারিশ্বর গ্রামের কৃষক দিন ইসলাম বলেন, এক মাস আগে কুর্শা মেসার্স কামাল ব্রিক্স এর ম্যানেজার সালাউদ্দিন ৫০ শতাংশ জমির মাটি ১০ হাজার টাকা দিয়ে কিনে নিয়েছেন। তারা জমির উপর থেকে ১০ ফুট গর্ত করে মাটি নেবে। অভাব-অনটনের কারণে এ মাটি বিক্রি করেছি।

নিকলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ বলেন, কৃষকদের সচেতন করার পরও তারা কথা শুনছেন না। জমির উর্বরতা শক্তি মাটির উপর থেকে ১৫-২০-ইঞ্চির মধ্যে থাকে। জমির উপর অংশের মাটি সরিয়ে ফেলায় ওই জমির উর্বরতা শক্তি পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়। নগদ টাকার আশায় কৃষকরা জমির মাটি বিক্রি করছেন। এতে সাময়িক তাদের অভাব দূর হলেও উত্পাদন ব্যাহত হচ্ছে। আর এ সংক্রান্ত কোনো আইন না থাকায় আমরা কিছুই করতে পারছি না।

ইত্তেফাক/নূহু