অনুপ্রেরণাদায়ী মা সীমা সরকারকে অভিনন্দন

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০১৮, ২২:০৬

সম্প্রতি গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত এক মায়ের গল্প সবার মনোযোগ কেড়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন এক মা, তাঁর কোলে সন্তান, যার বয়স ১৮ বছর। ছোটবেলা থেকে সে হাঁটতে পারে না। প্রয়োজনীয় কোনো কাজ করার জন্য মায়ের কোলে চড়েই তাকে যেতে হয়। সেদিন ছেলেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করানোর জন্য নিয়ে গিয়েছিলেন মা। তাঁর নাম সীমা সরকার, বাড়ি নেত্রকোনায়। ছেলের নাম হূদয় সরকার। এবার বিবিসি প্রণীত বিশ্বের ১০০ জন অনুপ্রেরণাদায়ী ও প্রভাবক নারীর তালিকায় ৮১তম স্থান করে নিয়েছেন মমতাময়ী এই নারী। প্রতিবছর সারা বিশ্বের বিজ্ঞান, রাজনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনোদন ও সাংবাদিকতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের ১০০ জন অনুপ্রেরণাদায়ী নারীর তালিকা প্রকাশ করে বিবিসি।

জন্মের পর অজানা এক রোগে আক্রান্ত হয়েছিল হূদয়। চলাফেরার শক্তি হারিয়ে ফেলে সে। কিন্তু মনোবল হারায়নি সে, মায়ের অনুপ্রেরণায় পড়াশোনা চালিয়ে গেছে। স্কুল-কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। সব পরীক্ষাই মায়ের কোলে চড়ে দিতে গেছে হূদয়। গত ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার ভর্তি পরীক্ষা দিতে যাওয়ার ছবি তুলে এক ব্যক্তি ফেসবুকে পোস্ট করেন। অল্প সময়ের মধ্যে তা ভাইরাল হয়ে যায়। কিন্তু ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও ঝামেলা বেধেছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালা নিয়ে। বিধিমালাতে শুধু দৃষ্টি, শ্রবণ ও বাক্প্রতিবন্ধী হলে কোটা প্রযোজ্য হবে উল্লেখ ছিল। এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে পরিশেষে  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ হূদয়কে প্রতিবন্ধী কোটায় ভর্তির সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এ সুযোগ সব শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর জন্য প্রযোজ্য হবে।

সীমা সরকার মাতৃত্বের অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেন। এই মায়ের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, তাঁকে অভিনন্দন। হূদয়ের মতো সন্তানরা এমন মায়ের ছায়াতলে আশ্রয় পাওয়ার সুযোগ পাবে—এটাই আমাদের সকলের কামনা।                  

অমিত বণিক

উত্তরা, ঢাকা