জবিতে ছাত্রলীগের দুগ্রুপের দফায় দফায় সংঘর্ষে আহত ১৫

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০১৮, ২১:৫৭
 
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রলীগের দুগ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রথম বর্ষের ভর্তিকৃত নতুন শিক্ষার্থীদের র‌্যাগিং ও ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের কর্মীদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় ১৫জন ছাত্রলীগ কর্মী আহত হন। 
 
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে প্রথম বর্ষের নতুন শিক্ষার্থীদের র‌্যাগিংকে কেন্দ্র করে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ জয়নুল আবেদিন রাসেলের কর্মী কণিক ও তাইজুদ্দিনকে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি তরিকুল ইসলাম গ্রুপের কর্মীরা মারধর করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবার সকাল আটটার দিকে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সামনে টিএসসিতে সভাপতি গ্রুপের কর্মী স্বপনকে (১২তম ব্যাচ, সমাজবিজ্ঞান) সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের কর্মী রাতুল, সৈকত, স্বপনসহ (১২তম ব্যাচ) আট থেকে দশ ছাত্রলীগ কর্মী মারধর করে। এক পর্যায়ে তাকে ছুরিকাঘাত করেন। এরপর সভাপতি গ্রুপের কর্মীরা ক্যাম্পাসে জড়ো হয়ে দেশিয় অস্ত্র রামদা, চাপাতি, ছুড়ি, রড, হাতুড়ি, লাঠিসোঠা নিয়ে ক্যাম্পাসে মহড়া দেয়। এক পর্যায়ে তারা সাধারণ সম্পাদকের কর্মীদের ধাওয়া দিয়ে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে। এ পরিস্থিতিতে সাধারণ সম্পাদকের কর্মীরাও অস্ত্র নিয়ে ক্যাম্পাসে জড়ো হতে থাকে। এসময় পুরো ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে প্রতিটি বিভাগে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ করে দেন। এই পরিস্থিতিতে নতুন শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন। এসময় সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের কর্মীরা উত্তেজিত হয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে সভাপতি গ্রুপের কর্মী সোহানের (১১তম ব্যাচ, মার্কেটিং) উপর হামলা করে। আহত অবস্থায় সোহানকে প্রথমে ন্যাশনাল পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
 
এই পরিস্থিতিতে দুপুর ১২টার দিকে সাধারণ সম্পাদকের কর্মীরা শহীদ মিনারের সামনে অবস্থান নেয়। অন্যদিকে সভাপতি গ্রুপের কর্মীরা নতুন ভবনের সামনে অবস্থান নেয়। এক পর্যায়ে এক গ্রুপ অপর গ্রুপকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। দফায় দফায় সংর্ঘষে ১৫জন অাহত হন। 
 
শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উভয়েই বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।
 
কোতোয়ালি জোনের এসি বদরুল হাসান রিয়াদ বলেন, ক্যাম্পাসে পাঁচ প্লাটুন অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
 
জবির প্রক্টর ড. নূর মোহাম্মদ বলেন, কোন ধরনের লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পুলিশের সহায়তায় বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 
 
ইত্তেফাক/আরকেজি