শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় উত্তাল পাকিস্তান

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০১৮, ০১:১১

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের কাসুরে ৬ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল বিক্ষোভে নেমেছে সেদেশের সাধারণ মানুষ। ধর্ষকদের ধরার ব্যাপারে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তারা। বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছে, ধর্ষকরা ধরা না পড়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বে না। বিক্ষোভ ধীরে ধীরে ঘটনাস্থল কাসুর থেকে অন্যান্য শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভ-কারীদের উপর পুলিশের গুলিতে এখন পর্যন্ত দুইজন নিহত হবার খবর পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, পাঞ্জাবের কাসুর শহরে জয়নব নামে ৬ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যার ঘটনা ঘটে। কয়েকদিন নিখোঁজ থাকার পর মঙ্গলবার বাড়ি থেকে দুই কিলোমিটার দূরে একটি ময়লার ভাগাড় থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

স্থানীয়দের অভিযোগ—শিশু অপহরণ, যৌন নির্যাতন ও হত্যাকান্ড থামাতে পুলিশ কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। অন্যদিকে পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, নিহত অন্তত ৫টি শিশু হত্যায় এক ব্যক্তিকে চিহ্নিত করেছেন তারা, যাকে ধরতে কয়েকশ কর্মকর্তা নিরলসভাবে কাজ করছেন। অপরাধীদের ধরতে ৯০ জন সন্দেহভাজনের ডিএনএ নমুনাও সংগ্রহ করা হয়েছে। বিক্ষোভ রাজপথ ছাড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্রিকেটার, চলচ্চিত্র তারকা ও রাজনীতিকরা এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন। টুইটারজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে ‘জাস্টিস ফর জয়নব হ্যাশট্যাগ’। অপরাধীকে ধরতে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীও।  মক্তবে কোরান পড়া শেষে বাড়ি ফেরার পথে জয়নব নিখোঁজ হয় বলে স্থানীয়রা জানান। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, নিখোঁজের বিষয়টি জানানোর পরও তারা পুলিশের তেমন কোনো তত্পরতা দেখতে পাননি।

জয়নবের আত্মীয়রাই পরে একটি সিসিটিভি ফুটেজ উদ্ধার করেন, যেখানে সাত বছর বয়সী শিশুটিকে এক ব্যক্তির হাত ধরে হেঁটে যেতে দেখা যাচ্ছে। ফুটেজটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে। তাদের অভিযোগ, পুলিশ তাদের মোটেও গুরুত্ব দেয়নি। তারা যদি তড়িত কোনো ব্যবস্থা নিত তাহলে হয়তো ওই ধর্ষক ও তার সহযোগীরা ধরা পড়তো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাকিস্তানের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মাহিরা খান সরকারের উদ্দেশে এক টুইটে লেখেন, ‘খুঁজে বের করুন খুনিকে। ওকে খুঁজে পেতে যা করা দরকার তাই করুন। আল্লাহর দোহাই লাগে একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করুন। এমন উদাহরণ তৈরি করুন যেন ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ করার কথা কেউ ভাবতেও না পারে।’

ক্রিকেটার মোহাম্মদ আমির টুইটারে ‘হ্যাশট্যাগ জাস্টিস ফর জয়নাব’ লিখে বলেন, আমার হূদয় ভেঙে গেছে। নিজেকে নিঃসঙ্গ ও ঘৃণ্য জীব মনে হচ্ছে। আমরা কোন সমাজে বাস করছি। শিশুটির মা-বাবার প্রতি সমবেদনা রইল।

পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেছেন, এই ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভে যারা নিহত হয়েছেন তাদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৩০ লাখ রুপি দেয়া ছাড়াও পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া যারা গুলি করেছে তাদের তথ্য সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তিনি বিক্ষোভকারীদের বলেছেন, এই ঘটনার সাথে যে বা যারা জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় কঠোর সাজা দেয়া হবে। সূত্র: বিবিসি, ডন

ইত্তেফাক/নূহু