ঢাকা ও চট্টগ্রামে গার্মেন্টস শিল্পঘন এলাকায় আধুনিক অগ্নিনির্বাপণ স্টেশন গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বর্তমানে গার্মেন্টস শিল্প অধ্যুষিত এলাকায় আধুনিক সুবিধাযুক্ত ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন নেই বললেই চলে। শিল্প এলাকার বাইরে বিদ্যমান ফায়ার সার্ভিস স্টেশন দিয়ে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠা গার্মেন্ট শিল্প এলাকার অগ্নিনির্বাপণ প্রায় অসম্ভব। এজন্য ৬২৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘১১টি মডার্ন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন স্থাপন’ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ। ঢাকার গাজীপুর চৌরাস্তা, রাজেন্দ্রপুর চৌরাস্তা, কোনাবাড়ি, কাশিমপুরের সারাবো, আশুলিয়ার জিরাবো, সোনারগাঁওস্থ কাঁচপুর ব্রিজ, ফতুল্লার শিবু মার্কেট, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী, খুলনার খুলশী, মাতারবাড়ি ও ঈশ্বরদীতে এসব আধুনিক ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল স্টেশন তৈরি করা হবে। চলতি অর্থবছর শুরু করে ২০২১ সালের জুন মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর এবং গণপূর্ত অধিদপ্তর।
দেশের অধিকাংশ গার্মেন্টস কারখানা বহুতল ভবনে অবস্থিত। এ ধরনের ভবনে অগ্নিনির্বাপণের ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তি সমৃদ্ধ প্রশিক্ষিত জনবল প্রয়োজন। ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর সাভারে তাজরীন গার্মেন্টসে অগ্নিকাণ্ডে ১১১ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। এর ৪ মাস পরেই সাভারের রানা প্লাজার ভবন ধসে ১১৩৭ জনের করুন মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ও প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশে তৈরি পোশাক শিল্পাঞ্চলে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০০১ সালে সারা দেশে মোট ৬০৫১টি অগ্নি দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়। যা ২০১৩ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ১৮ হাজার ১০৫টিতে এর মধ্যে ২৫৯টি দুর্ঘটনা ঘটে গার্মেন্টস শিল্প প্রতিষ্ঠানে। ফলে ১১৬ জন প্রাণ হারায়। বিগত তিন বছরে গার্মেন্টস শিল্পে এলাকায় সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪৬৭ কোটি টাকা।
দেশে শিল্পায়নের সাথে সাথে এর সুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সাভারে তাজরীন ও রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর বিদেশি ক্রেতাগণ অগ্নি নিরাপত্তাসহ সকল দুর্ঘটনায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পূর্বশর্ত আরোপ করেছে।
এ প্রেক্ষাপটে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের তৈরি পোশাক শিল্প অধ্যুষিত অঞ্চলে আধুনিক সুবিধা সম্বলিত ফায়ার স্টেশন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।
এছাড়া কক্সবাজারে মহেশখালীতে মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুত্ কেন্দ্র ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্রের জন্য ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণ জরুরি হওয়ায় মোট ১১টি ফায়ার ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন নির্মাণ করার জন্য প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে।
