ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ঢাকায়

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০১৯, ২২:৪৭

ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ডা. লোটে থেসারিং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে গতকাল শুক্রবার সকালে তিন দিনের সরকারি সফরে বাংলাদেশে এসেছেন। দেশে পৌঁছালে তাঁকে লাল গালিচা সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। ১৯ বার তোপধ্বনি ধরা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিভিআইপি লাউঞ্জে তাকে স্বাগত জানান। এ সময় ছোট্ট দুটি শিশু ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে ফুলের তোড়া উপহার দেন।

পরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনীর সদস্যদের গিয়ে গঠিত একটি সুসজ্জিত চৌকস দল ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, সংশ্লিষ্ট সচিববৃন্দ, তিনবাহিনীর প্রধানগণ, কূটনৈতিক কোরের ডিন এবং পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন। বিমানবন্দরে উষ্ণ অভ্যর্থনা পর্ব শেষে একটি সুশোভিত মোটর শোভাযাত্রা সহযোগে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে নিয়ে যাওয়া হয়। সফরকালে তিনি সেখানেই অবস্থান করবেন।

বঙ্গবন্ধু এবং বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা

দুপুরে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। পরে অটিজম বিষয়ক জাতীয় উপদেষ্টা কাউন্সিলের চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ হোসেন তাকে বঙ্গবন্ধু জাদুঘর ঘুরিয়ে দেখান। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী পরিদর্শক বইয়ে স্বাক্ষর করেন।  এর আগে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে স্বাধীনতা যুদ্ধের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বাংলাদেশে স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগকারী শহিদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল তাকে অভিবাদন জানায় এবং বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে। এখানে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী পরিদর্শক বইয়ে স্বাক্ষর এবং স্মৃতিসৌধ চত্বরে একটি গাছের চারা রোপণ করেন। জাতীয় স্মৃতিসৌধে ডা. লোটেকে অভ্যর্থনা জানান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান।

বিকেলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড.এ কে আব্দুল মোমেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর হোটেল কক্ষে সাক্ষাত্ করেন। পরে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফবিসিসিআই) এর নেতৃবৃন্দের সঙ্গে  বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।

রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক আজ

আজ শনিবার ভুটানের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর তেজগাঁওস্থ কার্যালয়ে (পিএমও) বৈঠকে মিলিত হবেন। বৈঠকের পরে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, অভ্যন্তরীণ কার্গো চলাচল সংক্রান্ত সহযোগিতা, স্বাস্থ্য এবং কৃষি খাত সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। পরে সন্ধ্যায় ভুটানের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাত্ করবেন। এরপরে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী তাঁর সম্মানে হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আয়োজিত নৈশভোজে যোগ দেবেন।