আশুগঞ্জে নিখোঁজের ১১দিন পর শিশুর লাশ উদ্ধার

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০১৮, ১৮:২০
 
আশুগঞ্জে নিখোঁজের ১১দিন পর হাত-পা বাঁধা ও বস্তাবন্দি অবস্থায় মো. রিফাত (৭) নামে এক শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার ভোরে উপজেলার খড়িয়ালা গ্রামের মনির মেম্বারের বাড়ির বাথরুমের ছাদের উপর হাত-পা বাঁধা ও বস্তাবন্দি অবস্থায় নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়। রিফাত একই গ্রামের বাহার মিয়ার ছেলে ও খড়িয়ালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্র।
 
এ ঘটনায় পুলিশ দুই অপহরণকারীকে আটক করেছে। আটককৃতরা হলেন, বরগুনা জেলার পাথরঘাটার সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে সোহাগ মিয়া (২৪), ঝালকাঠি জেলার কাঁঠালিয়ার আনসার আলীর ছেলে সোলায়মান (২২)।
 
পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৫ জানুয়ারি দুপুর থেকে নিখোঁজ হয়েছিল রিফাত। নিখোঁজের পর রিফাতে বাবা পুলিশকে অবহিত করে গত ৭ জানুয়ারি রাতে আশুগঞ্জ থানায় একটি জিডি করেন। নিখোঁজের দুই দিন পর রিফাতের বাবার কাছে মোবাইলে ফোন করে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ চায় অপহরণকারীরা। বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করলে পুলিশ তাদের কথা মতো বিকাশে মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা পাঠাতে বলে রিফাতের বাবাকে। বিকাশে মাধ্যমে টাকা পাঠানো পর সেই সূত্রধরেই পুলিশের কাছে খোঁজ মিলে অপহরণকারীদের। 
 
অপহরণকারী সোহাগ, সোলায়মান ও মিজান খড়িয়ালা গ্রামে রাইডার নামে একটি ব্যাগে ফ্যাক্টরিতে চাকরি করার সুবাধে একই এলাকায় ইউপি সদস্য মুমিন মিয়ার একতলা ভবনে ভাড়া নিয়ে থাকতেন। মোবাইলে কললিস্ট ধরে সোহাগ ও সোলায়মানকে আটক করলে তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী সোমবার ভোরে খড়িয়ালার ভাড়া বাড়িতে গিয়ে বাথ রুমের ফল ছাদের উপর থেকে হাত-পা বাঁধা ও বস্তাবন্দি অবস্থায় রিফাতের লাশটি উদ্ধার করে। তবে এ ঘটনায় আরেক অপহরণকারী মিজানকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
 
এব্যাপারে সরাইল সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মনিরুজ্জামান ফকির জানান, প্রথমে দুই অপহরণকারীকে সন্দেহজনকভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের দেয়া তথ্য মতে নিহতের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অপর অপহণকারী মিজানকে গ্রেফতারের জন্য বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চলছে।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি