চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। তবে প্রায় দেড় বছর অতিক্রান্ত হলেও ওই মেগা প্রকল্পের তেমন অগ্রগতি নেই বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে অতীতের মত চলতি বছরও চট্টগ্রাম নগরবাসী জলাবদ্ধতায় চরম ভোগান্তি পোহাবে বলে আশঙ্কা করছেন খোদ সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছিরউদ্দিন। তিনি এই প্রকল্প সফল বাস্তবায়নে চসিক ও সিডিএর মধ্যে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে সিটি করপোরেশনের পক্ষ হতে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
এদিকে, আসন্ন বর্ষা মৌসুমে চট্টগ্রাম নগরকে কিভাবে জলাবদ্ধতা মুক্ত রাখা যায় সেই বিষয়ে সিডিএ ও সেনাবাহিনীকে আলাপ আলোচনা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে সমন্বয় সাধনের জন্য বৈঠকের আমন্ত্রণ জানান সিটি মেয়র। এরই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার নগর ভবনে সিটি মেয়র, সেনাবাহিনী ও সিডিএ কর্মকর্তাদের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে মেয়র বলেন, গত দেড় বছরে মেগা প্রকল্পের তেমন অগ্রগতি পরিলক্ষিত হচ্ছে না। তাই এ বছরও জলাবদ্ধতার ভোগান্তি থেকে নগরবাসী রক্ষা পাবে না। মেয়র বলেন, নগরীতে জলজট সৃষ্টি হলেই নগরবাসী সিটি করপোরেশনকে দোষারোপ করে। নগরবাসীর এ ভোগান্তি লাঘবের জন্য চসিক ইতোমধ্যে অনেকবার সিডিএকে পত্র দিয়ে আমন্ত্রণ জানিয়েছে যাতে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে চসিক ও সিডিএর মধ্যে সমন্বয় হয়। মেয়র বলেন, এই প্রকল্প যাতে শতভাগ বাস্তবায়িত হয়, সে ব্যাপারে চসিক সর্বাত্মক সহযোগিতা দিয়ে যাবে। এ ধরনের কাজে চসিকের পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে। আরো রয়েছে জনবল। এছাড়া একাজে কাউন্সিলরদেরও অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাদের সহযোগিতা নেওয়ারও পরামর্শ দেন মেয়র।
মতবিনিময়ে চসিক ও সিডিএ প্রকল্পে যে সমস্ত কাজ ওভারল্যাপিং হয়েছে সেগুলো সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। আসন্ন বর্ষা মৌসুমে নগরীকে জলাবদ্ধতার আশংকা থেকে মুক্ত রাখতে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডকে ৪টি জোনে বিভক্ত করে সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলরদের নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওয়ার্ড কাউন্সিরদের মতামতের ভিত্তিতে কাজ করবে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান। বৈঠকে সিটি মেয়র ছাড়াও চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামসুদ্দোহা, প্রধান প্রকৌশলী লে. কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ এবং সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কন্সট্রাকশন ব্রিগেডের ভারপ্রাপ্ত প্রকল্প পরিচালক লে. কর্নেল, সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী উপস্থিত ছিলেন।
