নবাবগঞ্জে সংযোগ সড়ক ছাড়াই সেতু

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০১৯, ০০:৪১

এলাকাবাসীর কোনো কাজেই আসছে না

 দোহার-নবাবগঞ্জ (ঢাকা) সংবাদদাতা

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বারুয়াখালী ইউনিয়নের ছত্রপুর খালের মাঝখানে সেতু নির্মাণ করা হলেও এর দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। ফলে এলাকাবাসীর কোনো কাজেই আসছে না সেতুটি। কোনো সমাধান না হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অর্থায়নে প্রায় এক বছর আগে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান রিদিম কনস্ট্রাকশন ত্রিশ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণ করে। কিন্তু সেতুর দুই পাশে মাটি ভরাট করা হয়নি, নির্মাণ করা হয়নি সংযোগ সড়ক। ফলে যানবাহন তো দূরের কথা হেঁটে সেতুর উপরে ওঠাই অসম্ভব।

স্থানীয়রা জানান, সেতুর সংযোগ সড়ক হলে কান্দাবাড়িল্যা, বড় বাড়িল্যা, বাড়িল্যা, নবগ্রাম, কুমার বাড়িল্যাসহ আশপাশের এলাকার মানুষ খুব সহজেই পার্শ্ববর্তী রাস্তা ও দোহার যেতে পারবে। কলেজ শিক্ষার্থী মো. মিরাজ জানান, সেতুটি নির্মাণে খুশি হয়েছিলাম। মনে করেছিলাম রাস্তা হলে বাড়িল্যা কবরস্থানে যেতে ছত্রপুর করপাড়ার মানুষের অনেক উপকার হবে। রাস্তাই যদি না থাকে সেতু কোনো কাজে লাগবে না।

 বারুয়াখালী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা মিজানুর রহমান মোল্লা বলেন, রাস্তা ছাড়া সেতু নির্মাণ জনগণের সাথে মশকরা ছাড়া আর কিছুই না। তাছাড়া ঠিকাদার সেতুটি তৈরিতে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করেছে। কুমার বাড়িল্যা প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক ঝর্ণা রানী মণ্ডল বলেন, আমাদের স্কুলে খালের ঐপাড় থেকে অনেক ছেলে-মেয়ে পড়তে আসে। সামান্য বৃষ্টি হলেই খালে পানি জমে। ফলে ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুলে ঠিকমত আসতে চায় না। রাস্তাটি হওয়া খুব জরুরি।

এ ব্যাপারে বারুয়াখালী ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, সেতুর দুই পাশে মাটি ভরাটের ব্যাপারে ঠিকাদারের সাথে আমার কথা হয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন হয়ে যাবে। সংযোগ সড়কের বিষয়ে বলেন, প্রকল্পটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

 এ ব্যাপারে রিদিম কনস্ট্রাকশন প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদার জাহাঙ্গীর চোকদার বলেন, সেতুটি নির্মাণকালে খালে পানি চলে আসায় দুই পাশে মাটি ভরাট করা সম্ভব হয়নি। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে মাটি ভরাট করা হবে। চূড়ান্ত বিলের বিষয়ে তিনি বলেন, বিল আমি সম্পূর্ণ তুলে নিয়েছি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার সাগর হোসেন সৈকত বলেন, আমি নতুন এসেছি। এসেই আমি এ ধরনের ৮/১০টি সেতুর মাটি ভরাটের কাজ শেষ করেছি। ছত্রপুর খালের উপর সেতুর মাটি ভরাটের বিষয়টি কয়েকদিন আগে জানতে পেরেছি। তবে খুব শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।