শিবালয়ের আরিচা-জাফরগঞ্জ সড়ক ঝুঁকিতে

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০১৯, ০০:৪১

শিবালয়ে নিহালপুর এলাকায়

পদ্মা-যমুনা বেড়িবাঁধ কাম আরিচা-জাফরগঞ্জ সড়কের নিচের অংশ ধসে পড়ছে

 শহিদুল ইসলাম সুজন, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

মানিকগঞ্জের শিবালয়ে নিহালপুর এলাকায় পদ্মা-যমুনা বেড়িবাঁধ কাম আরিচা-জাফরগঞ্জ সড়কের নিচের অংশ ধসে পড়ছে। পানি বাড়ার সাথে সাথে ও স্পিডবোটের ঢেউয়ের কারণে নদীর পাড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। দ্রুত এ ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে যে কোনো সময় বড়ো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা। এতে নদীগর্ভে চলে যেতে পারে আরিচা-জাফরগঞ্জ সড়ক এবং নিহালপুর, তেওতাসহ কয়েকটি গ্রাম। এমন পরিস্থিতিতে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে গ্রামবাসী।

নিহালপুর এলাকার লোকজন জানান, আগে বর্ষা মৌসুমে হঠাত্ নদীর পানিতে তলিয়ে যেতো ফসলি জমি। জমির ফসল রক্ষার্থে ১৯৬২-৬৩ সালের দিকে আরিচা থেকে জাফরগঞ্জ পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়। পরবর্তী সময়ে এ বাঁধটিই রাস্তায় পরিণত হয়। এটি এখন আরিচা-জাফরগঞ্জের মধ্যে সহজে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম। তবে আরিচা ১নং ফেরিঘাট থেকে নিহালপুর ১নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় এক হাজার মিটার রাস্তার নিহালপুর অংশে প্রতিবছরই বর্ষা মৌসুমে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নদী ভাঙন দেখা দিত। বাঁশ দিয়ে ‘প্যালাসাইটিং’ করে অস্থায়ীভাবে মেরামত করে ভাঙন রোধ করা হতো। পরবর্তী সময়ে ২০১৩-১৪ সালে উক্ত স্থানে প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে নদীর পাড়ে নিচ থেকে সিমেন্টের খুঁটি দিয়ে ‘প্যালাসাইটিং ’ করে ওপরের অংশে ব্লক বসিয়ে মেরামত করা হয়। এতে বেশ কয়েক বছর নদী ভাঙন থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। কিন্তু চলতি বছর নদীতে পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে প্যালাসাইটিংয়ের নিচের অংশে ঢেউয়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এ ভাঙন রোধ করা না হলে একদিকে রাস্তাটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। অন্যদিকে বর্ষাকালে পানিতে তলিয়ে যাবে তেওতা ইউনিয়নের নিহালপুর, ঝিকুটিয়া ও নারায়ণ তেওতাসহ আশ-পাশের এলাকার বাড়ি-ঘর ও ফসলি জমি।

নিহালপুর গ্রামের আব্দুল মজিদ শেখ বলেন, স্পিডবোট চলার কারণে নদীতে ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়। এ ঢেউয়ে রাস্তাটি ভাঙছে।

তেওতা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের বলেন, এ ব্যাপারে শিবালয় উপজেলা প্রশাসন, এলজিইডি, জেলা প্রশাসন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার বলে তিনি মনে করেন। শিবালয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহেদী হাসান বলেন, তিনি নিজে ঘটনাস্থলটি পরিদর্শন করে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করেছেন। তারা এসে দেখে গেছেন। এছাড়া উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকেও যতটুকু সম্ভব ভাঙন রোধের চেষ্টা করবেন বলে তিনি জানান।

মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবে মাওলা মেহেদী হাসান বলেন, তিনি নিহালপুরে নদী ভাঙনের বিষয়টি জানতে পেরেছেন এবং তার দপ্তরের লোক দিয়ে স্থানটি পরিদর্শন করিয়েছেন। বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। ভাঙন রোধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।