আত্মহত্যা নয়, পরিবারের অভিযোগ ধর্ষনের পর হত্যা

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০১৮, ২৩:১০

'আত্মহত্যা নয়, ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে' মায়ের এমন অভিযোগের ভিত্তিতে  ময়নাতদন্তের জন্য আদালতের নির্দেশে দাফনের ৯ মাস পর তাসনিম কলির (১৬) মৃতদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। তাসনিম মাগুরা শহরের কাউন্সিল পাড়ার বাসিন্দা ইকবাল হোসেনের মেয়ে এবং মাগুরা শহরের দুধমল্লিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে ২০১৭ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলো। ২০১৭ সালের ৩ এপ্রিল ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগানো অবস্থায় তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

মাগুরা সদর থানার সাব ইন্সপেক্টর (এসআই) আশরাফুল ইসলাম বলেন, মা-বাবার আবেদনের প্রেক্ষিতে সে সময় ময়না তদন্ত ছাড়াই লাশ দাফন সম্পন্ন হয়েছিল। সম্প্রতি ওই কিশোরীর মা হোসনে আরা বেগম তার মেয়েকে ধর্ষনের পর হত্যা করা হয়েছে বলে মাগুরা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৪ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। এ মামলার প্রেক্ষিতে অদালত ময়না তদন্তের জন্য কবর থেকে লাশ উত্তোলনের আদেশ দেন। এ আদেশের প্রেক্ষিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খোরশেদ আলম চৌধুরীর উপস্থিতিতে বুধবার দুপুরে মাগুরা ভায়না পৌর কবরস্থান থেকে ওই কিশোরীর লাশ উত্তোলন করা হয়।

মৃত কিশোরীর মা হোসনে আরা বেগম অভিযোগ করেন, তিনি অন্যের বাসা বাড়িতে কাজ করেন। স্বামী অটো চালক। ঘটনার সময় তার মেয়ে কলি একা বাসায় ছিল। তিনি কাজ সেরে বাসায় গিয়ে লাশ দেখে কিছু বুঝে ওঠার আগেই  একটি চক্র মেয়ে অত্মহত্যা করেছে বলে প্রচার চালিয়ে তড়িঘড়ি করে তাকে দিয়ে কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে ময়না তদন্ত ছাড়াই লাশ দাফন সম্পন্ন করে। ঘরের আড়ার সাথে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া থাকলেও উদ্ধারের সময় দেখা গেছে চেয়ারের উপর বসা অবস্থায় তার মেয়ে লাশ রয়েছে। ভাড়া বাসার মালিকের কেয়ারটেকার আজাদ ও সবুজ নামে অপর এক যুবক তাকে ধর্ষনের পর হত্যা করেছে। একাজে তাদের সহযোগিতা করেছে প্রতিবেশি বিউটি ও সুফিয়া নামে প্রতিবেশি দুই নারী। যে কারনে তিনি কবর থেকে লাশ উত্তোল করে ময়না তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবীতে আদালতে মামলা করেছেন।

মাগুরা জেলা প্রশাসকের কার্যলয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খোরশেদ আলম চৌধুরী বলেন, লাশ ময়না তদন্তর জন্য আদালতের নির্দেশে কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/নূহু