কর্মীদের অধিকার দিতে গ্রামীণফোনের বিরোধিতা

আপডেট : ২৮ জানুয়ারি ২০১৮, ০৯:১৪
 
কর্মীদের অধিকার না দিতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছে গ্রামীণফোন। শেষ পর্যন্ত ৬ বছর লড়াই করে জিতেছে কর্মীরাই। আদালত থেকে অ্যামপ্লয়ীজ ইউনিয়ন (জি.পি.ই.ইউ.) করার অনুমতি পেয়েছে। শ্রম আইন অনুযায়ী ৭ দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট দেওয়ার কথা। কিন্তু ১৭ দিন পার হলেও সার্টিফিকেট দেওয়া হয়নি। যা আদালত অবমাননার শামিল বলেই মনে করেন কর্মীরা। দ্রুত এই রেজিস্ট্রেশন দেওয়ার দাবিতে গতকাল শনিবার গ্রামীণফোনের কর্মীরা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছেন। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সাংবাদিক সম্মেলন করেও জানিয়েছেন প্রতিবাদ। তাদের অভিযোগ গ্রামীণফোন নানা কৌশলে তাদের অধিকার বঞ্চিত করার চেষ্টা চালিয়েছে। আইনি লড়াইয়ে না পেরে নানা ধরনের অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
 
অ্যামপ্লয়ীজ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মিয়া মো. শাফিকুর রহমান মাসুদ গ্রামীণফোনের নাম উল্লেখ না করে বলেন, ‘আমরা মনে করছি রেজিস্ট্রেশন বিলম্বিত করার উদ্দেশ্যে কোনো কোনো মহল অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’ তিনি বলেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর ও কর্তৃপক্ষকে জোরালভাবে জানিয়ে দিতে চাই, উচ্চ শ্রম আদালতের রায় বাস্তবায়নে কোনোরূপ কালবিলম্ব না করে অনতিবিলম্বে তাদের রেজিস্ট্রেশন প্রদান করে আদালতের রায় ও আইনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হোক। অন্যথায় শ্রমিক-কর্মচারীরা আইনগত ব্যবস্থাসহ বৃহত্তর কর্মসূচি দেবেন।
 
সাংবাদিক সম্মেলনে বলা হয়, গ্রামীণফোনের দক্ষ, মেধাবী ও সুশিক্ষিত শ্রমিক-কর্মচারীরা, ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা ও আদায়ের জন্য এক ক্রান্তিকালিন সময়ে তথা ২০১২ সালের জুন মাসে ‘গ্রামীণফোন অ্যামপ্লয়ীজ ইউনিয়ন’ নামে একটি আদর্শ ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করে। আইনগত সকল নিয়মনীতি পালন করে ২০১২ সালের ২৩ জুলাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ যথাযথ কর্তৃপক্ষ তথা শ্রম পরিচালকের কাছে রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন করেন। কিন্তু শ্রম আইনানুযায়ী ইউনিয়নকে ভুল সংশোধনের কোনো নোর্টিস না দিয়েই ৪ কর্মদিবসের মধ্যে রেজিস্ট্রেশনের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়। এই প্রত্যাখ্যানের বিরুদ্ধে তারা ২য় শ্রম আদালত, ঢাকায় একটি আপিল দায়ের করেন। প্রায় ২ বছর পর আদালত আপিল শুনতে বিব্রত বোধ করে বিষয়টি শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালে পাঠিয়ে দেয়। শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল শুনানিশেষে তাদের পক্ষে ইউনিয়ন করার আদেশ দেন।
 
শ্রম আপিল ট্রাইবুনালের রায়ের বিরুদ্ধে গ্রামীণফোন রীট করে। শুনানি শেষে হাইকোর্ট, শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালকে আপিল মোকদ্দমাটি শ্রম আদালতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আপিলটি ১ম শ্রম আদালতে পাঠানো হলে আদালত শুনানিশেষে আপিল খারিজ করে দেয়। কর্মীরা রায়ের বিরুদ্ধে শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালে আপিল করলে, আদালত কর্মীদের পক্ষে রায় দেন। এই রায় ঘোষণার পর রায়ের সার্টিফাইড কপি পেতে সময় লেগেছে দেড় বছরের বেশি। ৬ বারের বেশি তারা আবেদন করলেও কোনো লিখিত কপি দেওয়া হয়নি। পরে হাইকোর্টে একটি রীট করেন কর্মীরা। আদালত ১ মাসের মধ্যে রায়ের কপি দিতে ট্রাইব্যুনালকে নির্দেশ দেন।
 
দীর্ঘ প্রায় ৬ বছর আইনি লড়াইয়ের পর, রায়ের কপি পেয়ে রেজিস্ট্রার অব ট্রেড ইউনিয়নের কাছে রেজিস্ট্রেশন দিতে আবেদন করা হয়। শ্রম আইনানুযায়ী ৭ দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট দেওয়ার কথা। কিন্তু ১৭ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট দেওয়া হয়নি। যা আদালত অবমাননার শামিল বলেই মনে করেন কর্মীরা। তাদের আশঙ্কা রেজিস্ট্রেশন বিলম্বিত করার উদ্দেশ্যে কোনো কোনো মহল অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
 
সাংবাদিক সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি ফজলুল হক ছাড়াও মাতুজ আল-কাদরী, রফিকুল কবির সৈকত, আদিবা জেরিন, বি.এম. জাহিদুর রহমানসহ বিপুল সংখ্যক কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
 
প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ ও প্রতিবেদকের বক্তব্য-
 
গত শুক্রবার দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত ‘নিজেরা টাকা নিতেই সঞ্চয় ভেঙে লভ্যাংশ দিচ্ছে গ্রামীণফোন’ শীর্ষক সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছে গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, গ্রামীণফোনের লভ্যাংশ প্রদানের বিষয়টি শেয়ারহোল্ডারদের ইচ্ছাধীন, যা তারা নিয়মিত আয়োজিত বার্ষিক সাধারণ সভায় অনুমোদন করে থাকেন। তাদের আর্থিক প্রতিবেদন বিভিন্ন রেগুলেটর এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পর্যবেক্ষণ করে থাকে। গ্রামীণফোন পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি এর আর্থিক প্রতিবেদন জনগণ এবং বিশ্লেষক সবার জন্য উম্মুক্ত।
 
প্রতিবেদকের বক্তব্য : প্রতিবেদনে গ্রামীণফোনের লভ্যাংশ কীভাবে বণ্টন হচ্ছে, কারা কীভাবে পাচ্ছেন সে বিষয়ের একটা চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনের কোনো তথ্যের প্রতিবাদ করেনি গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ। প্রতিবাদে তারা যেটা বলেছে, সেটা প্রতিবেদনেও উল্লেখ করা আছে। নিছক প্রতিবাদ করার জন্যই প্রতিবাদলিপি পাঠানো হয়েছে।
 
ইত্তেফাক/আনিসুর