স্পোর্টস রিপোর্টার
মহিলা বিশ্বকাপে খেলা কলম্বিয়ান দুই ফুটবলার জেসিকা হার্টাডো এবং ক্যাথেরিন ফ্যাবিওলা ক্যাস্ট্রোমুনজ তিন দিনের সফর শেষ করলেন। ব্যস্ত সময় কেটেছে তাদের। ঢাকা সফরে মূল উদ্দেশ্য বঙ্গমাতা অনূর্ধ্ব—১৯ আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্টের প্রচার প্রচারণা। ২২ এপ্রিলি শুরু হতে যাওয়া ৬ দেশের টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ খেলছে। বাংলাদেশের মহিলা ফুটবলারদের অনুশীলন চলছে। গতকাল বাফুফে ভবনের টার্ফে কলম্বিয়ান ফুটবলারদের সঙ্গে বাফুফে এবং ইউনিসেফের অনুষ্ঠানে জাতীয় দলের খেলোয়াড়রাও সময় কাটিয়েছেন।
কলম্বিয়ান ফুটবলাররা জানেন এদেশের মাটিতে কার নামে টুর্নামেন্ট হবে। সেখানে স্বাগতিক দেশের ফুটবলাররা নিজেদের মেলে ধরতে কঠোর অনুশীলন করে যাচ্ছেন।
কলম্বিয়ান ফুটবলার মনিকা, মারিয়া, সানজিদাদের টনিক দিয়েছেন। এ যেন কলম্বিয়ান ফুটবল টনিক। মেয়েরা কলম্বিয়ান ফুটবলারদের সঙ্গে কথা বলেছেন জড়তাহীন। জেসিকা, ক্যাথেরিনরা তাদের ফুটবল ক্যারিয়ারের নানা ঘটনার অংশ তুলে ধরেছেন। ধারণা দিচ্ছিলেন চাইলেই কেউ ফুটবলার হতে পারে না। এখনও সারা দুনিয়ায় নারী এবং পুরুষকে দুইভাবে দেখা হয়। একজন পুরুষ যেটা খুব সহজে সম্পন্ন করে ফেলতে পারে সেটা নারী পারে না। একটু জড়তা থাকে। ফুটবল যারা খেলতে আসেন তাদের জড়তাটা আরো বেশি থাকে। এই জড়তা যারা কাটিয়ে উঠতে পেরেছে তারা সফলতার মুখ দেখেছে। জেসিকা পরিষ্কার করে বলছিলেন তোমাদের মাঠে খেলা। কঠিন প্রতিপক্ষ। সামনে দর্শক। টিভি সেটের সামনে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, খেলার সময় কোনো কিছুই মাথায় রাখবে না। আমরা এখানে এসে দেখেছি তোমরা জড়তায় ভুগছো না। এটাই তোমাদের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব। মাঠে নিজেদের জায়গায় দাঁড়িয়ে যেভাবে খেলতে হবে সেভাবেই খেলবে।’
জেসিকা এবং ক্যাথেরিন, শেষ কথা একটাই বললেন, ‘অনুশীলন এবং অনুশীলন। এটাই হচ্ছে ভালো ফুটবলার হওয়ার চাবিকাঠি। আমাদের উত্থানটা সহজ ছিল না। আমরা কঠোর পরিশ্রম করে উঠে এসেছি। একদিন তোমরাও আমাদের মতো হবে এরজন্য সবচেয়ে দরকার পরিশ্রম এবং পরিশ্রম।’
কলম্বিয়ান টনিকে মনিকা, তহুরা, মারিয়া, কৃষ্ণা রানী, শিউলী আজিম, রূপনা চাকমা, আঁখীদের সামনে কঠোর পরিশ্রম করার প্রেরণা। বিশ্বকাপ ফুটবল খেলে আসা কলম্বিয়ানরা নিজেরাই বলে যাচ্ছেন তাদের জীবনের কতো উত্থান পতন গেছে। একটা সময় সফলতা এসেছে। মনিকারা অনুভব করেন পরিশ্রম করলে বৃথা যাবে না। বঙ্গমাতা আন্তর্জাতিক ফুটবলে পরিশ্রমের সবটুকু ঢেলে দিতে প্রস্তুত তারা।
