জনবল সংকটে রাজবাড়ীর দুই রেলরুট বন্ধের উপক্রম

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০১৯, ২১:৪৮

মো. মাহ্ফুজুর রহমান, রাজবাড়ী প্রতিনিধি

জনবল সংকটে রয়েছে রাজবাড়ী-ফরিদপুর ও রাজবাড়ী-ভাটিয়াপাড়া রেলরুটের ২২টি স্টেশন। এ দুটি রেলরুটে মোট ৬৪জন স্টেশন মাস্টার থাকার কথা থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র ১৩জন। এর মধ্যে ১৫টি রেলস্টেশনে নেই স্টেশন মাস্টার। জনবল সংকটে নিরাপত্তার অভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ও বন্ধের উপক্রম হয়েছে।

রাজবাড়ী রেলস্টেশন মাস্টার তন্ময় কুমার দত্ত বলেন, রাজবাড়ী রেলস্টেশনে একজন স্টেশন মাস্টার ও দু’জন সহকারী স্টেশন মাস্টার থাকার কথা থাকলেও কর্মরত আছেন দু’জন। এছাড়া পোর্টার, বিশ্রামাগার এটেনডেন্ট, কেবিনম্যান, ট্রেনের ক্লার্ক ও স্টেশন সহকারী পদেও জনবল সংকট রয়েছে। স্টেশন চালাতে শুধু স্টেশন মাস্টার নয় বিভিন্ন দপ্তরে জনবল প্রয়োজন। স্টেশনগুলোতে মাস্টার না থাকায় সেখানে ট্রেন ক্রসিং করা যায় না। অন্য স্টেশনে ক্রসিং করতে সময়ের অনেক অপচয় হয়।

রেলওয়ের পাকশি বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও) আবদুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, জনবল না থাকায় রেলস্টেশনগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে পূর্ব অঞ্চলের ১২৪টি রেলস্টেশনের মধ্যে ৫২টি বন্ধ হয়েছে। পুনরায় স্থাপিত রেলপথে জনবল এখনো মঞ্জুরিই করা হয়নি। স্টেশন মাস্টার না থাকায় স্টেশনগুলোতে নিরাপত্তায় সমস্যা দেখা দিচ্ছে, তেমনি স্টেশনের আশ-পাশের গেটগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। আবার স্টেশনে টিকিট বিক্রি না হওয়ায় সরকারের রাজস্ব আদায় হচ্ছে কম।

রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আইনি জটিলতায় নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ ছিল। সমপ্রতি রেলওয়ের স্টেশন মাস্টারসহ বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

এদিকে গত ৪ এপ্রিল রাজবাড়ী রেলস্টেশন পরিদর্শনে আসেন রেলমন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজন। ওই সময় তিনি জানান, রেল যোগাযোগে সুদিন ফিরিয়ে আনতে বর্তমান সরকার কাজ করছে। ২০১৫ সালে একটি মামলাজনিত জটিলতায় আর কোনো নিয়োগ হয়নি রেল বিভাগে। মামলার জটিলতা শেষ হয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে।