দীর্ঘ ৭৯ বছর ধরে সুনামের সঙ্গে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত কিশোরীগঞ্জ বহুমুখী মডেল উচ্চবিদ্যালয়টি। এ বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন উচ্চ পর্যায়ে কর্মরত ছিলেন এখনো আছেন। বর্তমানে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি এলাকার রোল মডেল।
কিশোরীগঞ্জ বহুমুখী মডেল উচ্চবিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৩৯ সালে তৎকালীন সময়ে এলাকার কয়েকজন শিক্ষানুরাগীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ৭ একর ৩৩ শতাংশ জমির উপর কিশোরীগঞ্জ মধ্য ইংলিশ স্কুল হিসেবে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা লাভ করে। পরবর্তীতে ১৯৭৭ সালে কিশোরীগঞ্জ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় হিসাবে নামকরণ করা হয়। পর্যায়ক্রমে বিদ্যালয়টি পাইলট স্কিমভুক্তের আওতায় আসে। এরপর সর্বশেষ ২০০৯ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে সারা বাংলাদেশে ৬৩টি বিদ্যালয়কে মডেল ঘোষণা করা হলে কিশোরীগঞ্জ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়টি সারা বাংলাদেশের মধ্যে ৩৭ নম্বর সিরিয়ালে থেকে মডেল হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করে।
বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ১২শ' ৩০জন ছাত্রছাত্রীর পাঠদানের জন্য ৩০জন শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ৮ জন কর্মচারী রয়েছেন। এ ছাড়াও তিনতলা ভবন ১টি, দ্বিতল ভবন ২টি, একতলা ভবন ১টি, টিনশেড বিল্ডিং ২টি, জিমনেশিয়াম হল ১টি, মসজিদ ১টি, সাইকেল গ্যারেজ ২টি, কম্পিউটার ১৮টি, ল্যাপটপ ৭টি, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ৭টি ও দূরদূরান্তর থেকে আসা ছাত্রছাত্রীদের থাকার জন্য ৫০ শয্যাবিশিষ্ট একটি ছাত্রাবাস রয়েছে।
কিশোরীগঞ্জ বহুমুখী মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম আজম বলেন, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা ডিজিটাল হওয়ায় এই বিদ্যালয়ে একটি কম্পিউটার ল্যাব, একটি উন্নত ব্যাবহারিক রুম, একটি বাউন্ডারি ওয়াল, জিমনেশিয়াম হলের সংস্কার ও বর্ষাকালে স্কুলমাঠে পানি জমে থাকায় ছাত্রছাত্রীদের বিভিন্ন সমস্যা হয়। তাই সরকারের কাছে এসব সমস্যা সমাধানের দাবি করেন তিনি।
কিশোরীগঞ্জ বহুমুখী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সাবুল হোসেন বলেন, কিশোরীগঞ্জ বহুমুখী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়টি যাতে করে তার নিজস্ব ঐতিহ্য ধরে রাখতে পারে সেজন্য তিনি প্রতিষ্ঠানটিকে জাতীয়করণের জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।
ইত্তেফাক/এসএস
