শ্যামলেন্দু পাল, নেত্রকোনা প্রতিনিধি
আজ সেই ১৪ এপ্রিল, পহেলা বৈশাখ। নেত্রকোনার কাঞ্চনপুর ‘নববর্ষ ট্র্যাজেডি’র আজ ১৫ বছর। ২০০৪ সালের এ দিনে গোধুলী সন্ধ্যায় মাত্র এক মিনিটের টর্নেডোতে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় নেত্রকোনা ও আশপাশের এলাকার ২৫টি গ্রাম। নিহত হয় শতাধিক লোক। বাদ যায়নি নববিবাহিতা স্বামী-স্ত্রীও। বাদ যায়নি কোলের শিশু। কনে দেখতে এসে প্রাণ হারায় জামাই পক্ষের লোকজন। ঝড়ের প্রবলতা এই ছিল যে, কাঞ্চনপুরের ভাওয়াল বিলের সকল পানি বিল থেকে উঠিয়ে আশপাশের জমিতে ফেলে দেয়। বিলের মাছগুলো অর্ধ কিলোমিটার দূরে পাওয়া যায়। লোকজনের লাশ পাওয়া যায় পাশের গ্রামে। উদ্ধার করা হয় মস্তকবিহীন অপরিচিত লাশ। চারদিকে তখন মানুষের কান্নার আওয়াজ ছাড়া আর কিছুই ছিল না। ঝড়ে বাড়ি ঘর মাটির সঙ্গে মিশে যায়।
কাঞ্চনপুর গ্রামের লাল মিয়া জানান, এখনো যদি পশ্চিমের আকাশে কালো মেঘের সঙ্গে লাল কিছু দেখা যায়, তারা ভয়ে আঁতকে উঠেন, আবার বুঝি সেই ভয়াল রাত তাদের জীবনে আসে। আবার বুঝি লোক মারা যাবে। এরপরেও তারা ঝড়ের সঙ্গে লড়াই করেই বেঁচে থাকার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। সেই ঝড়ের দিনটির কথা স্মরণ করে আজ মসজিদ মন্দিরে হচ্ছে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা।
