নারীর প্রতি সহিংসতা রুখে দাঁড়াও

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০১৯, ২২:৩৩

ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার প্রতিবাদে রাজধানীতে ‘গণভবন থেকে বঙ্গভবন’ পর্যন্ত মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে নারীর প্রতি সব ধরনের সহিংসতা রুখে দেওয়ার ডাক দিয়েছেন বাম রাজনৈতিক নেতারাসহ সমাজের বিশিষ্টজনেরা। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবির উদ্যোগে গতকাল শনিবার আয়োজিত বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত এক ঘণ্টার এই ব্যতিক্রমী কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও বাম ছাত্র সংগঠন, ছাত্রলীগ, চেতনা পরিষদ সাংস্কৃতিক সংগঠন, নারী অধিকার সংগঠন, মানবাধিকার সংগঠন, আইনজীবী ও বিভিন্ন এনজিও’র প্রতিনিধিরা অংশ নেন। প্রত্যেকেই অভিন্ন কণ্ঠে বলেছেন, নুসরাতের মতো যাতে আর একটি ঘটনাও না ঘটে সেজন্য অপরাধীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ঢাকায় এই কর্মসূচির পাশাপাশি একই সময়ে সারাদেশে জেলা-উপজেলায়ও গতকাল মানববন্ধন, বিক্ষোভ- সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

পাকিস্তান আমলের জুলুম-অত্যাচার এখনও রয়ে গেছে: মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম

মানববন্ধন কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীর মতিঝিলে রাজউক ভবনের সামনে সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, যেই স্বপ্ন নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ করা হয়েছিল, তা বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হয়নি। তখন সবাই পাকিস্তান আমলের জুলুম-অত্যাচার নিঃশেষ হয়ে যাবে বলে আশা করেছিল, কিন্তু তা এখনও রয়ে গেছে। তিনি বলেন, নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলন শেষ হবে না। এই আন্দোলন শুধুমাত্র সিপিবির না, এটা সব দলের আন্দোলন। তিনি আগামী ২০-২৭ এপ্রিল পর্যন্ত ‘নারী নির্যাতন প্রতিরোধ সপ্তাহ’ পালনের জন্য দলমত নির্বিশেষে সবার প্রতি আহ্বান জানান।

দুষ্টের দমনে রাষ্ট্র ব্যর্থ: সুলতানা কামাল

ধানমন্ডির ২৭ নম্বরে মানববন্ধন কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, নুসরাতের মত যাতে আর কোনো ঘটনা না ঘটে এর জন্য আমরা এই ঘটনাসহ সবগুলো নারী সহিংসতার কঠোর শাস্তি চাই। তিনি প্রশ্ন করে বলেন, বারবার কেন আমাদের একই দাবি নিয়ে রাস্তায় দাঁড়াতে হবে? রাষ্ট্রযন্ত্র যখন তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন না করে তখনই এসব হত্যাকাণ্ড ঘটে। রাষ্ট্র দুষ্টের দমন করতে ব্যর্থ হওয়ায় তনুর মতো নুসরাতকেও খুন হতে হলো।

বিচার বিভাগীয় তদন্ত চাই: সৈয়দ আবুল মকসুদ

ধানমণ্ডির ২৭ নম্বরে কর্মসূচিতে যোগ দেন লেখক-গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদও। তিনি বলেন, আমরা আর কত তনু, নুসরাতের মতো হত্যাকাণ্ড দেখবো? না আর কোনো মায়ের বুক এভাবে খালি হতে দেখতে চাই না। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই, অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা না করে হাইকোর্টের বিচারকের নেতৃত্বে বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে তদন্ত করে অপরাধীদের সঠিক বিচার করুন।

খুনিদের শাস্তি দিয়ে প্রমাণ করতে হবে আইনের শাসন আছে: ড. ইফতেখারুজ্জামান

এদিকে, আসাদগেটে মানববন্ধনে অংশ নিয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এ ঘটনার কঠোর শাস্তি দেওয়া সরকারের জন্য একটি অগ্নিপরীক্ষা। নুসরাত হত্যার কঠোর শাস্তি দিয়ে সরকারকে প্রমাণ করতে হবে যে দেশে আইনের শাসন আছে। তিনি বলেন, আমরা নুসরাত হত্যার ন্যায়বিচার চাই। এই ঘটনার সঙ্গে যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় নিয়ে কঠোর শাস্তি দিতে হবে।

আসাদগেইটের মানববন্ধনে হিউম্যান রাইটস ফোরাম বাংলাদেশ, টিআইবি, নারীপক্ষ, কেন্দ্রীয় খেলাঘর, কৃষিবিদ ইউনিয়নসহ ১০-১২টি সংগঠন যোগ দেয়। ‘গ্রিন ভয়েস’-এর উদ্যোগে সোবহানবাগ, ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির সামনে ‘নুসরাত হত্যার বিচার, নারী-শিশু ধর্ষণ-হত্যা, ক্রমবর্ধমান বর্বরতা, রাষ্ট্রের ক্ষমাহীন উদাসীনতা, নীতি-নৈতিকতার অবক্ষয়ের’ প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

কাওরানবাজার :কাওরানবাজার ওয়াসা ভবনের কাছে চেতনা পরিষদের তেজগাঁও সরকারি বিজ্ঞান কলেজের শাখার ছাত্র শিক্ষক ও এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিরা নুসরাতের হত্যাকাণ্ডের জড়িতদের কঠোর শাস্তি প্রদানে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করে।