রক্তাক্ত জনপদ চুয়াডাঙ্গার অন্যতম নায়ক এবং জাসদের কেন্দ্রীয় নেতা কাজি আরেফ হত্যাসহ বহু হত্যা মামলার আসামি নুরুজ্জামান লাল্টু দীর্ঘ ১৯ বছর পর জামিনে বের হয়েছেন। তিনি বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির প্রবর্তক ছিলেন।
গত সোমবার সন্ধ্যার পর অনেকটা গোপনে তিনি চুয়াডাঙ্গা কারাগার থেকে বের হন। বের হয়েই একটি সাদা মাইক্রোবাসে উঠে তিনি আলমডাঙ্গার কয়রাডাঙ্গা গ্রামের নিজ বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন।
১৯৯৬ সালের পর থেকে মুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্জামান লাল্টু বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি নাম দিয়ে চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর অঞ্চলে দূর্দান্ত আধিপত্য বিস্তার করেন। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আহ্বানে ১৯৯৯ সালের ২৯ জুলাই তার নিজ গ্রাম কয়রাডাঙ্গা প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অস্ত্রসহ বিপুল সংখ্যক অনুসারীদের নিয়ে আত্মসমর্পণ করেন।
আত্মসমর্পণের আগে তার বিরুদ্ধে ইটভাটায় জীবন্ত মানুষ পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠতে থাকে। এ ছাড়া জাসদের কেন্দ্রীয় নেতা কাজি আরেফ হত্যাসহ খুন গুমের ৩০ থেকে ৪০টি মামলা দায়ের হয়।
জামিনে মুক্ত হওয়া নুরুজ্জামান লাল্টু বলেন, আইনি লড়াই করে জামিন পেতে ১৯ বছর কারাভোগ করতে হয়েছে। বাকি জীবনটা কৃষিকাজ করে কাটিয়ে দিতে চায়।
জানা গেছে, উচ্চ আদালত থেকে নুরুজ্জামান লাল্টুর জামিনের কাগজপত্র সোমবারই চুয়াডাঙ্গা কারাগারে এসে পৌঁছে। এরপর সন্ধ্যার পর অনেকটা গোপনীয়ভাবে তাকে জেল থেকে বের করা হয়। এ সময় তার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম, মেয়ে লাকি খাতুন, জামাতা আশাবুল হক ও শ্যালক আখতারুজ্জামান লাবলু কারাফটক থেকে তাকে নিয়ে বাড়ির দিকে রওনা দেন।
লাল্টুর আইনজীবী আব্দুস সামাদ জানান, তার বিরুদ্ধে ৩০ থেকে ৪০টি মামলা ছিল। কাজি আরেফ হত্যা মামলায় তিনি জামিনে ছিলেন। অবশিষ্ট একটি হত্যা মামলায় উচ্চ আদালত তাকে জামিন দিয়েছেন।
চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারের জেলার ইমরান হোসেন জানান, আলমডাঙ্গার একটি হত্যা মামলায় জামিন হওয়ায় তিনি কারামুক্ত হয়েছেন।
ইত্তেফাক/ইউবি
