ব্রিটেনে প্রাচীন বাসিন্দা ছিল কালো মানুষ

আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১১:৪৬
 
মহাদেশীয় ইউরোপের উত্তর-পশ্চিম উপকূলের কাছে উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত দ্বীপ গ্রেট ব্রিটেন। শেষ হিমবাহ যুগের শেষে হিমবাহগুলো গলতে শুরু করলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পায়। এই সময় গ্রেট ব্রিটেন একটি দ্বীপে পরিণত হয়। ইউরোপীয় মূল ভূখণ্ড থেকে একটি স্থল সেতুর মাধ্যমে মানুষের আগমন ঘটে গ্রেট ব্রিটেনে। প্রায় ৩০ হাজার বছর আগের পুরনো আধুনিক মানুষের বসতির সন্ধান পাওয়া যায় গ্রেট ব্রিটেনে। ব্রিস্টলের কাছে চেডডার জর্জে বিজ্ঞানীরা খুঁজে পেয়েছিলেন ইউরোপীয় মূল ভূখণ্ডে কিছু প্রাণীর দেহাবশেষ। চেডডার জর্জে অন্যান্য প্রাণীর সঙ্গে পাওয়া গেছে একটি মানুষের মাথার খুলিও যেটিকে (চেডডার ম্যান) হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। চেডডার জর্জে পাওয়া সেই মাথার খুলিই ব্রিটেনবাসীর সামনে সেই সময়ের মানুষের চেহারার নমুনা তুলে ধরেছে। ব্রিটেনের মানুষরা সাধারণত শ্বেতাঙ্গ। কিন্তু চেডডার ম্যানের মাথার খুলি আর সেই সময়ের ঐ অঞ্চলে পাওয়া যায় মানুষের ডিএনএ’র নমুনার সমন্বিত বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা বলছেন, এগারো হাজার বছর আগে ব্রিটেনের মানুষ ছিল কুচকুচে কালো।
 
ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের বিজ্ঞানী মার্ক থমাস বলেন, যে চেডডার ম্যানের খুলি পাওয়া গিয়েছিল তার চোখগুলো সম্ভবত নীল ছিল, চুলগুলো ছিল কিছুটা কোকড়ানো এবং গায়ের চামড়া ছিল গাঢ় কালো রঙের। এই তথ্য মানুষকে চমকে দিলেও প্রাচীন ডিএনএ সঠিক তথ্যই তুলে ধরেছে মানুষের সামনে। প্রাচীন ডিএনএ সম্পর্কে জানার জন্য তিনি প্রযুক্তির অগ্রগতিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তার মতে, প্রযুক্তির অগ্রগতির কারণেই প্রাচীন ডিএনএ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা সম্ভব হয়েছে।
 
বিজ্ঞানীরা চেডডার ম্যানের ডিএনএর সঙ্গে স্পেন, হাঙ্গেরি এবং লুক্সেমবার্গে পাওয়া মেসোলেথিক যুগের ডিএনএ’র মিল খুঁজে পেয়েছেন। বিজ্ঞানীদের মতে, এগারো হাজার বছর আগে হিমবাহ যুগের শেষে হিমবাহগুলি গলতে শুরু করলে যেসব মানুষ ইউরোপে চলে এসেছিল চেডডার ম্যানও সম্ভবত সেই গোষ্ঠীর মানুষের বংশধর কিংবা পূর্বপুরুষ।
 
লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামে রক্ষিত চেডডার ম্যানের খুলির নমুনা থেকে একদল মানুষ সেই সময়ের মানুষের চেহারার আদল গড়ার জন্য দীর্ঘদিন গবেষণা করেছে। থমাসও ছিলেন সেই দলের একজন। খুলির আকার-আকৃতির মাপজোখ করে তারা একটা আদল গড়ার চেষ্টা করেন। সেই সঙ্গে চেডডার ম্যানের জিনের একটি রূপরেখা তৈরি করেন বিজ্ঞানীরা। ডিএনএ’র নমুনা থেকে তারা সেই সময়ের মানুষের গায়ের রঙ, চোখের রঙ, চামড়া প্রকৃতি ইত্যাদির রূপরেখা তৈরি করেন। এরপর সেই খুলির সঙ্গে ডিএনএ নির্দেশিত চোখের রঙ, গায়ের রঙ, চামড়ার প্রকৃতির সংযোগ ঘটিয়ে চেডডার ম্যানের একটা আদল তৈরি করেন। আর এটি করতে তারা থ্রিডি স্ক্যান এবং প্রিন্টিংয়ের সাহায্য নিয়ে চামড়া তৈরি করেন। চেডডার ম্যানের সেই খুলিই মূলত তত্কালীন গ্রেট বিটেনের মানুষের চেহারার একটা নমুনা তুলে ধরেছে।-বিবিসি