খেলনা কামান বিস্ফোরণে ছাত্র আহত

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ২০:৫৭
 
শুরু হয়েছে লাগসই প্রযুক্তির ব্যবহার ও সম্প্রসারণ মেলা। সেখানে বিলচলন কারিগরি ও কমার্স কলেজের একটি স্টল ছিল। কলেজের পক্ষে সেই মেলায় নিজেদের আবিষ্কৃত খেলনা কামান প্রদর্শন করেছিল পাঁচ বন্ধু। সকালের শুরুটা ভালোই ছিল তাদের। দুপুরে হঠাৎ পাল্টে গেল চিত্র।
 
তখন দুপুর আড়াইটা হবে। মেলার ভেতর বিকট শব্দ। একটি স্টলে ধুঁয়া উড়ছিল। মাটিতে পড়ে আছে আহত দর্শনার্থী ছাত্র শাহাবুদ্দিন (১৮)। তার গলা থেকে রক্ত ঝরছিল। স্থানীয়রা ওই ছাত্রকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। প্রথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। দর্শনার্থী শাহাবুদ্দিন খুবজীপুর এম হক ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ও বিয়াঘাট ইউনিয়নের সাবগাড়ি গ্রামের ফয়জাল সরকারের ছেলে।
 
খেলনা কামানের আবিষ্কারক শিক্ষার্থী নোমান, রিয়াদ, আশরাফুল, শরিফুল ও সোহাগ জানায়, তারা পাঁচ বন্ধু মিলে ওই কামান আবিষ্কার করেছে। কলেজের স্টলে সেই কামান প্রদর্শন করা হয়। স্টলের ভেতরেই রবিবার দুপুরে দর্শনার্থী শাহবুদ্দিন কামানটি নাড়াচারা করছিল। এসময় হঠাৎ কামানের বিস্ফোরণ ঘটে। তারা কোন মতে বেঁচে গেলেও শাহাবুদ্দিনের গলায় স্পিন্ট আঘাত হানে। মাটিতে লুটিয়ে পড়ে সে।
 
ওই কলেজের বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক মিরাজুল ইসলাম ও ট্রেড ইন্সট্রাক্টর আবু শামীম জানান, শিক্ষার্থীদের আবিষ্কৃত খেলনা কামানটির বিস্ফোরণ ঘটে। এসময় ছাত্র শাহাবুদ্দিন গুরুত্বর আহত হয়। বিকট আওয়াজে অনেকেরই কানে সাময়িক সমস্যা দেখা দেয়।
 
মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের আবিষ্কৃত খেলনা কামানটি মেলায় প্রদর্শন করা হয়েছিল। এছাড়া বেশ কয়েকটি প্রযুক্তির ব্যবহারও রয়েছে ওই স্টলে। তবে ওই কামানটি ব্যাটারি চালিত ছিল। কোন প্রকার বিস্ফোরক দ্রব্য নয়। তাছাড়া বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে নিশ্চিত হতে আগামীকাল (সোমবার) ওই কলেজের শিক্ষক এবং কামানটির আবিষ্কারকদের সাথে কথা বলা হবে। মেলায় কোন প্রকার বিস্ফোরক দ্রব্য প্রদর্শন করার অনুমতি নেই। অনাকাঙ্খিতভাবে এক দর্শনার্থী স্টলে ঢুকে কামানটি নাড়াচাড়া করছিল। এসময় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। মেলায় সাময়িক আতঙ্ক সৃষ্টি হলেও পরে পরিস্থিত স্বাভাবিক হয়।
 
গুরুদাসপুর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মো. তারেকুর রহমান সরকার বলেন, বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। তবে রাসায়নিক বিক্রিয়ার কারণে ওই ঘটনা ঘটতে পারে।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি