মেলা দেখে খুব ভালো লাগছে। বয়সের ভারে এখন মেলায় খুব একটা আসা হয় না। আজই (সোমবার) প্রথম এলাম। এত খোলামেলা মেলা- ভাবাই যায় না। গায়ে গায়ে ধাক্কা লাগছে না। তরুণরা আসছেন মেলায়। তাদের সংখ্যাই বেশি। সবচেয়ে বড় কথা, যারা মেলায় আসছে তারা কেউ গান শুনতে আসছে না, স্টলে বসে কফি খেতে আসছে না। আসছে বই কিনতে। দেশের সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে এটা খুব বড় ঘটনা।
মেলা প্রতিবছরই তার আগের অবস্থানকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক মানের দিকে এগোচ্ছে। একদিনে তো আন্তর্জাতিক মান অর্জন সম্ভব নয়! ধীরে ধীরে হবে।
এই মেলা শুধুই বইকেনার মেলা নয়। এখানে এলে সবার সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ভাবের, মতের আদান-প্রদান ঘটছে। সমমনা লোকদের সঙ্গে আড্ডা-আলোচনা হচ্ছে। বইমেলার ফাঁকে মানুষের জীবনযাপনের অনেকগুলো উদ্দেশ্য পূরণ করছে এই বইমেলা। সে কারণেই এর আবেদন বিশ্বের আর যে কোনো মেলার চাইতে ভিন্ন। সে জন্যই এটা নিছক বইমেলা না থেকে হয়ে উঠেছে মিলনমেলা, উত্সব।
মেলায় প্রকাশিত বইয়ের লেখার মান নিয়ে অনেক কথা হয়। বই প্রকাশের সংখ্যাধিক্য নিয়েও অনেক বিতর্ক। এখন লেখার মান বাড়ছে কি না- ঢালাও মন্তব্য না করেই বলতে চাই- বই প্রকাশনার মান বাড়ছে। ছাপা, প্রচ্ছদ আকর্ষণীয় হচ্ছে। এটাও তো কম কিছু নয়। যাদের লেখার মান ভালো না। তাদের বই বিক্রি হবে না। তারা এমনিতেই ঝরে যাবে। তবে, শিশুদের বইয়ের ক্ষেত্রে এবং যেসব প্রকাশনীর বই সম্পাদনা ভালো হয় না, এদের চিহ্নিত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে বাংলা একাডেমি। তা হলে, প্রকাশনীগুলো মান বজায় রাখার ক্ষেত্রে যত্নবান হবে।
ইত্তেফাক/নূহু
