গঙ্গাচড়ায় ছোটদের একুশ উদযাপন

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১১:৫৪
পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র নিলয়, ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র প্রান্ত, শিখর, অষ্টম শ্রেণীর মন্দিরা সহ গ্রামের ৭/৮ জনের একদল শিশু। বাড়ি রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার কিসামত হাবু গ্রামে। মাথায় তাদের শহীদ মিনার তৈরির ঝোঁক। বেশ কয়েকদিন থেকে নিজেদের মধ্যে তাদের আলোচনা চলছে। অবশেষে তারা শহীদ মিনার তৈরির পরিকল্পনা করে। এ জন্য তাদের স্কুলের নাস্তার টাকা বাঁচিয়ে শহীদ মিনার তৈরির কাজ শুরু করে তারা।
 
বাজার থেকে লাল-নীল রঙয়ের কাগজ নিয়ে এসেছে। সেই সাথে সংগ্রহ করেছে বাঁশ, সুতা অন্যান্য সরঞ্জামাদি। একুশে ফেব্রুয়ারির সাত দিন আগে থেকে কাজ শুরু করে। বইয়ে আঁকা শহীদ মিনারের ন্যায় তারা বাঁশ দিয়ে ছক তৈরি করেছে। ফুল আর লাল কাপড় দিয়ে রাঙিয়ে দিবে শহীদ মিনারকে। সেই সাথে তারা তৈরি করে শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার জন্য গেট। লাল-নীল কাগজে আঁকবে বিভিন্ন রকমের স্লোগান। তারা বাজারে মোবাইলের দোকান থেকে বিভিন্ন ধরনের দেশাত্মবোধক গান মেমোরিতে রেকর্ড করে আনে। মনের মধ্যে তাদের দেশপ্রেম। মাইকের ব্যবস্থাও করেছে। জাতীয় সঙ্গীত থেকে করে বিভিন্ন ধরণের দেশাত্মবোধক গান বাজবে। আনন্দ উল্লাস করবে তারা।
 
রাত ১২টায় পতাকা উত্তোলন করেন বীরমুক্তিযোদ্ধা খগেন্দ্র নাথ বর্মণ। ১২টা এক মিনিটে নিজেদের তৈরি শহীদ মিনারে তৈরি ফুল দেয় তারা। এ সময় অনেকে বলেন, আজকাল ছোট ছোট শিশুদের মাথায় অনেক বড় চিন্তা। বই থেকে তারা এ ভাবনাগুলোকে তৈরি করে। এই গ্রামের শিশুদের মত উপজেলার বিভিন্ন এলাকাতেও শিশুদের একুশ উদযাপনের চিত্র দেখা গেছে।
 
ইত্তেফাক/এসএস