এবারের মেলায় তরুণ লেখকদের বই বেশ ভালো বিক্রি হচ্ছে মেলায়। ফেসবুকে কিংবা ওয়েব ম্যাগাজিনে গল্প প্রকাশ হওয়ার পরেও অনেক তরুণ লেখক জনপ্রিয় হয়ে ওঠছেন পাঠকের কাছে। পাঠকরা বলছেন, সংবাদপত্রের সাহিত্য পাতার চাইতে ফেসবুকের পোস্ট এবং অনলাইন পোর্টালে লেখা পড়ে অনেক তরুণ লেখকের বই কিনছেন তারা।
ঐতিহ্য থেকে তরুণ কবি জননু রাইনের কবিতার বই ‘এয়া’র দ্বিতীয় মুদ্রণ প্রকাশিত হয়েছে। যার অনেক কবিতাই পাঠকরা ফেসবুকে বা ওয়েব ম্যাগাজিনে পড়েছেন। আগামী প্রকাশনী থেকেও তরুণ লেখক মোশাহিদা সুলতানা ঋতুর গল্পগ্রন্থ ‘বড়ো শহরের ছোট গল্প’ এর দ্বিতীয় মুদ্রণ এসেছে। ঋতু বললেন, আমার দ্বিতীয় বই ‘বড়ো শহরের ছোট গল্প’। এই বই নিয়ে খুব একটা প্রচারণা করতে হয়নি। অনলাইন সাহিত্য পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল আমার ‘শিক্ষকের বৌ’ গল্পটি। কথাশিল্পী আনিসুল হক তার ফেসবুক পেজে গল্পটি শেয়ার করে লিখেছিলেন, ‘এসময়ের সেরা গল্প’। এ গল্পটি আমাকে অনেকের কাছেই পরিচিত করে তোলে। প্রতিদিনই প্রতিক্রিয়া জানিয়ে কোনো না কোনো ইমেইল, মেসেজ পাঠিয়েছেন পাঠকেরা। রাস্তাঘাটে, ইউনিভার্সিটিতে, পারিবারিক অনুষ্ঠানে কেউ না কেউ এসে জানিয়েছেন গল্পটা পড়ে কিভাবে কেঁদেছেন সকলে। আমার যে কী ভালো লেগেছে। মনে মনে জানতাম, ভালবেসে যে কাজই করবো তা মানুষকে স্পর্শ করবেই। কিন্তু এভাবে পাঠকের কাছাকাছি যাবো, ভালোবাসা পাবো ভাবতেই পারিনি। এদিকে, আরেক তরুণ লেখক মুহম্মদ আকবরের গবেষণা গ্রন্থ ‘উকিল মুন্সি : প্রামাণ্য পাঠের সন্ধানে’ বের করেছে য়ারোয়া প্রকাশনী। বাউল সাধক উকিল মুন্সীর জীবন ও কর্ম বইটিতে শৈল্পিকভাবে তুলে ধরা হয়েছে। আকবর জানান, পাঠকদের নানা দিকে আগ্রহ সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে এ ধরনের গবেষণা গ্রন্থের প্রতিও আগ্রহ বাড়ছে। বইটি প্রকাশের ক্ষেত্রে নানামহল থেকে সাড়া পেয়েছি। সে কারণেই বই হিসেবে বের হলো।
বইমেলায় এখন বেচাকানার পর্বই চলছে। যারা আসছেন বই কিনতেই আসছেন মেলায়। কারণ বইমেলায় বইছে বিদায়ের সুর। বাঙালির প্রাণের এ মেলা শেষ হচ্ছে কাল। তাই কেউ আর দেরি করছেন না পছন্দের বইটি সংগ্রহ করতে। সবার হাতে বই। স্টলে বইপ্রেমিকদের ভিড়।
মেলা কর্তৃপক্ষ জানান, মেলার টাস্কফোর্স অমর একুশে গ্রন্থমেলার নীতিমালা ভঙ্গ করার কারণে ১০টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে লিখিত শোকজ করেছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে চলন্তিকা, আলীগড়, রাবেয়া, সুপ্তি, দোয়েল, সিসিডি, চিরন্তন, ঘাসফড়িং, হলি।
ইত্তেফাক/নূহু
