যারা নতুন সংসার শুরু করেন, তাদের পক্ষেও একসঙ্গে প্রয়োজনীয় সব আসবাব কেনা সম্ভব হয় না বাজেট স্বল্পতার কারণে। কিন্তু বসার জন্য সোফা বা চেয়ার, শোয়ার জন্য খাট, খাওয়ার বা পড়ার জন্য টেবিলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু আসবাবের তো দরকার হয়ই। শুধু প্রয়োজন একটু চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীল একটি মন, অন্দরেই সব স্টোরেজ করে বাঁচিয়ে ফেলুন ঘরের অনেকটা জায়গা।
বসার ঘর ছিমছাম করে সাজাতে ওয়াল ক্যাবিনেট ব্যবহার করতে পারেন। শুধু ঘরের দুটি দেয়াল ঘেঁষে সোফা রেখে মাঝে সেন্টার টেবিল রাখুন। সোফার সামনের দেয়ালে ক্যাবিনেট তৈরি করতে পারেন। এ ক্যাবিনেটেই একাধারে শোকেস ও এলসিডি ইউনিটের কাজ করবে। ক্যাবিনেটের মধ্যে থাকবে টিভি রাখার তাক। সোফার বদলে মেঝেতে ফোম বসিয়ে বা মাদুর, শতরঞ্জি পেতে এর ওপর বড় কুশন পেতেও বসার আয়োজন করা যেতে পারে। লম্বা আকৃতির একটা ফোম বসিয়ে তার ওপর নকশা করা একটা রঙিন চাদর বিছিয়ে ওপরে কিছু রংবেরঙের কুশন ছড়িয়ে দিতে হবে। মাঝখানে সেন্টার টেবিল, তার নিচেও থাকতে পারে স্টোরেজ।
শোবার ঘরের এক পাশের পুরো দেয়ালজুড়েই বানাতে পারেন ক্যাবিনেট। দুটি শোবার ঘর থাকলে মাঝের দেয়ালটাকেই ব্যবহার করুন দুই ঘরের ফার্নিচার হিসেবে। দুই রুমে দুটি আলমারি বানাতে পারেন। সেজন্য পুরো দেয়ালটা অর্ধেক করে দুই পাশে দুই রুমে আলমারির দরজা দিয়ে দিন। এজন্য দুই রুমের আলমারির দরজা ছাড়া বাকি অংশটুকু ডোকো পেইন্ট করে ফেলুন। তাহলে বোঝা যাবে না, ওই অংশটুকু অন্য আলমারির পিছনের অংশ। দুটি রুমে যাতায়াতের জন্য মাঝে একটি দরজাও ব্যবহার করতে পারেন। আর দরজাজুড়ে দুই পাশেই আয়না ব্যবহার করুন, এতে মনে হবে আয়নাটা আলমারিরই একটা অংশ।
সাধারণত খাবার ঘরে টেবিল আর ক্রোকারিজ ক্যাবিনেটেই রাখা হয়। খাবার ঘরের ঠিক মাঝখানে খাবার টেবিল রাখুন। খাবার ঘরে শোকেস তৈরি করতে ব্যবহার করুন রুমের বা ড্রয়িংয়ের মাঝের পার্টিশন। কাঠের ফ্রেমের মধ্যে বোর্ডের তাক করে কাচ দিয়ে তৈরি করুন দেয়াল শোকেস। কাচের পাল্লার ক্যাবিনেটে রাখুন ক্রোকারিজ বা শোপিস। ওভেন, ব্লেন্ডার, টোস্টারসহ নানা গ্যাজেটের জিনিসগুলো রাখুন মাঝের ফাঁকা অংশে।
শোবার ঘরে খাট ছাড়া অন্য সব কিছু যেমন—আলমারি, ওয়ার্ডরোব ও ড্রেসিং টেবিল একটা দেয়াল ফার্নিচারে হয়ে যায়। পুরো দেয়ালজুড়ে একটি ক্যাবিনেট তৈরি করুন। ক্যাবিনেটের মাঝের পাল্লায় আয়না বসিয়ে নিচে ড্রয়ার দিন। চাইলে ড্রেসিং ইউনিট আলাদা দেয়ালে করতে পারেন। শোবার ঘরে অনেকেই টেলিভিশন রাখতে চান। এলইডি, এলসিডি, স্মার্ট টিভি—যা-ই হোক না কেন, দেয়ালে ক্যাবিনেট করে নিন। এজন্য বিছানার সামনের দেয়ালটি নির্বাচন করুন। বিছানার উচ্চতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে টিভির উচ্চতা নির্ধারণ করুন। ক্যাবিনেটের মধ্যে টিভি বসিয়ে তার পাশে, ওপরে-নিচে বানিয়ে ফেলুন বুকশেলফ, শোকেস ও সাউন্ড সিস্টেম। ছবির ফ্রেম, পছন্দের কিছু বই, সিডি কিংবা নানা রকম শোপিসের সংগ্রহ রাখতে পারেন এখানে।
খাটের মাথার দেয়ালের ওপরের অংশে পাল্লাবিহীন ক্যাবিনেট তৈরি করুন। এখানে রাখুন বই আর দু-একটা ফটোফ্রেম। ঘরের কর্নারটা সাজাতে তৈরি করুন কর্নার ক্যাবিনেট। এতে শোপিস, ইনডোর প্ল্যান্ট রাখুন। ঘরের খোলা কর্নারে দেয়াল লাগোয়া ডেস্ক আর ক্যাবিনেট তৈরি করুন। এটাকে ব্যবহার করতে পারেন স্টাডি টেবিল হিসেবে অথবা রাখতে পারেন কম্পিউটার। এছাড়া এখানে আনুষঙ্গিক জিনিসও রাখতে পারেন।
