ক্ষুধার্ত কোহলি আরো চান

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৯:৪৫
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পাওয়া সাফল্য নিয়েই তৃপ্ত থাকতে রাজি নন ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক বিরাট কোহলি। প্রোটিয়া সফরে সাফল্যের কারণে ভারত টানা দ্বিতীয় বছরের মতো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের(আইসিসি) টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপের পুরস্কার লাভ করেছেন।
 
সীমিত অভারের ক্রিকেট টুর্নামেন্ট শেষ হবার পর শনিবার কোহলির হাতে তুলে দেয়া হয় চ্যাম্পিয়নশীপের মর্যাদার পুরস্কার। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে কোহলির নেতৃত্বাধীন ভারত ৫-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ এবং ২-১ ব্যবধানে টি-২০ সিরিজ জয় করেছে। 
তবে সফরের শুরুতে দ্বিতীয় র‌্যাংকধারী দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে টেস্ট সিরিজে পরাজয়ের বিষয়টি রয়েছে কোহলির মানসপটে। টেস্ট দল নিয়ে চলতি বছরের শেষ দিকে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চ্যালেঞ্জিং সিরিজের অপেক্ষায় থাকা কোহলি বলেন, ‘আমি বলবো এখনো আমরা ৮০ শতাংশ অর্জন করেছি। ওই দুই সফরে সফল হতে পারলেই আমরা পুরোপুরি তৃপ্ত হতে পারবো। তবে যে ৮০ শতাংশ অর্জিত হয়েছে সেটিও রোমাঞ্চকর। বিশ্বসেরা দল হতে হলে আপনাকে শতভাগ অর্জন করতে হবে।’
 
এপ্রিল মাসে নির্ধারিত হয় আইসিসির র‌্যাংকিংয়ের চূড়ান্ত অবস্থান। ওই সময়ের মধ্যে অন্য কোন দলের পক্ষে ভারতকে টপকে যাওয়া সম্ভব নয়। পুরস্কার ও গৌরব অর্জনের পাশাপাশি শীর্ষে থাকার পুরস্কার হিসেবে ১০ লাখ মার্কিন ডলার প্রাইজ মানি পাবে।
আধুনিক ক্রিকেটে সফরকারী অধিনায়ক হিসেবে কোহলির মতো মানসিক দৃঢ়তা আর কেউ দেখাতে পারবে কি-না সে বিষয়ে সন্দেহ রয়েছে। তার মতে, ভারতীয় দল কোন প্রতিপক্ষ বা কন্ডিশনকে ভয় পায় না। তিনি বলেন, ‘আমরা পিচের দিকে মনোযোগ দিয়ে কন্ডিশনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিই। বিষয়টি খুবই সাধারণ। প্রতিটি ম্যাচই হোম ম্যাচ মনে করতে হবে।’
 
দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের শুরু থেকেই তার দল নির্বাচন নীতিটি ছিলো ইতিবাচক। তার মূলমন্ত্র হচ্ছে ইতিবাচক ক্রিকেট খেলা এবং কোন অবস্থাতেই পিছপা না হওয়া। দক্ষিণ আফ্রিকার ফাস্ট বোলারদের কথা বিবেচনায় রেখে তাদের সহায়ক বোলিং পিচের বিষয়ে কখনো কোন অভিযোগ করেননি কোহলি। এমনকি আইসিসি ম্যাচ রেফারি ক্রিস ব্রড প্রথম দুই টেস্টের পিচকে ‘গতানুগতিক’ এবং ওয়ান্ডারার্সে তৃতীয় টেস্টের পিচকে তার স্থলাভিষিক্ত হওয়া এন্ডি পাইক্রফট ‘দুর্বল’ আখ্যা দিয়েছেন। কোহলি শুধুমাত্র বলেছেন, নিম্নমানের পিচে বোলাররা বেশী সুবিধা পায়। যা দক্ষিণ আফ্রিকাকে সহায়তা করেছে। যে কারণে সিরিজের প্রথম দুই টেস্টে ভারত হেরে গেছে। তবে ওই দুই ম্যাচে ভারতীয়রা বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। তৃতীয় টেস্টে জয়লাভের মাধ্যমে ভারত খারপ কন্ডিশনেও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়েছে। 
 
রেকর্ড রান:
 
টেস্টের পর সাদা বলে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকাকে একেবারেই নাকানি-চুবানি খাইয়েছে ভারত। সফরকারী দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী ছিলেন অধিনায়ক বিরাট কোহলি। টেস্ট কিংবা ওয়ানডে দুই ফর্মেটেই সেরা ছিলেন তিনি। টেস্টে বিরূপ পরিস্থিতিতেও তিনি মানষিক দৃঢ়তা, সাবলীল কৌশল ও আত্মবিশ্বাস প্রদর্শন করেছেন। একটি সেঞ্চুরিসহ ৪৭.৬৬ ব্যাটিং গড়ে তার সংগ্রহ ২৮৬ রান।
 
ওয়ানডে ক্রিকেটে ব্যাটিং সহায়ক উইকেট পেয়েই বিস্ফোরণ ঘটাতে শুরু করলেন কোহলি। দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজে বিশ্ব রেকর্ড গড়ে তিনি তিনটি সেঞ্চুরিসহ ১৮৬ গড়ে সংগ্রহ করেন ৫৫৮ রান। 
 
সতীর্থ ক্রিকেটররাও এ সময় অনুসরণ করেন কোহলিকে। বোলারদের পারফর্মেন্সও ছিল দুর্দান্ত। টেস্টে সুযোগ পেয়ে জসপ্রিত বুমরাহ ওয়ানডে বোলিংকেও ছাড়িয়ে গেছেন। মোহাম্মদ সামি, ইশান্ত শর্মা ও ভুবনেশ্বর কুমারসহ ভারতীয় সব বোলারই ভুগিয়েছে প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানদের। 
 
কোহলির ব্যাটিং ফর্মের ঢেউ আছড়ে পড়ে সতীর্থদের ব্যাটিংয়েও। শিখর ধাওয়ান ছাড়া টেস্টে কোন বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যানই গড়ে ৩০ এর নীচে নামেনি। তবে ওয়ানডে ক্রিকেটে সেটি পুষিয়ে দিয়েছেন ধাওয়ান। পঞ্চম ওয়ানডে ক্রিকেটে কোহলি ৩৬ রানে আউট হয়ে গেলে দারুণ একটি ইনিংস উপহারের মাধ্যমে সেঞ্চুরি হাঁকান রোহিত শর্মা। সিরিজে ৩৬ রানই ছিল কোহলীর সর্ব নিন্ম সংগ্রহ।
 
অবশ্য কোহলি বলেছেন, প্রথম দুই টেস্টে সেরা দলটি নির্বাচন করেনি ভারত। তৃতীয় টেস্টে আজিংকা রাহানের ব্যাটিং প্রমাণ করেছে তিনি আগের দুই ম্যাচের জন্য উপযুক্ত ছিলেন। অপরদিকে দ্বিতীয় টেস্টে কুমারকে বাদ দেয়াটা ছিল হতাশার। এদিকে শ্রীলংকায় আসন্ন ত্রিদেশীয় টি২০ সিরিজের জন্য গঠিত দল থেকে বাদ দিয়ে বিশ্রামে পাঠানো হয়েছে কোহলি সহ ভারতীয় দলের বেশক’জন সিনিয়র ক্রিকেটারকে। আগামী ৬ মার্চ শুরু হবে এই সিরিজ। আগামী এপ্রিলে শুরু হচ্ছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ (আইপিএল)। ওই টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে কোহলি টাকার চেয়ে নিজেদের শক্তিাশালী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সতীর্থদের তাগিদ দিয়েছেন। সতির্থ খেলোয়াড়রা তার এই দৃষ্টান্ত অনুসরণ করবে প্রত্যাশা কোহলির। বাসস।
 
ইত্তেফাক/ রেজা