সেই নবজাতকের নাম রাখা হল ‘স্বাধীন আহমেদ’

আপডেট : ০১ মার্চ ২০১৮, ২১:২৮
স্বাধীনতার মাস মার্চের প্রথমদিন বৃহস্পতিবার ভোরে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার বানিয়াগাতী গ্রামের রাস্তার পাশের ঝোঁপের ভেতর পাওয়া সেই নবজাতক (ছেলে) শিশুটির নাম রাখা হয়েছে ‘স্বাধীন আহমেদ’। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুকতাদিরুল আহমেদ এ নাম রাখেন।
 
শিশুটির খোঁজ নিতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে যান। সেখানে তিনি শিশুটির সার্বিক খোঁজ-খবর এবং প্রাথমিক চিকিৎসার সকল দায়-দায়িত্ব নেন। এ সময় কেন্দুয়া থানার ওসি মো. সিরাজুল ইসলাম ও বিভিন্ন গণমাধম্যের কর্মীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। বর্তমানে শিশুটি সম্পূর্ণ সুস্থ থাকলেও তার সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে উপজেলা সমাজসেবা অফিসের তত্ত্বাবধানে শিশুটিকে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
 
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোরে বানিয়াগাতী গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের স্ত্রী মিনা আক্তার ফজরের নামাজ আদায় করার জন্য অজু করতে বাড়ির পাশের টিউবওয়েলে গেলে শিশুটির কান্না শুনতে পান। পরে প্রতিবেশিদের ডেকে নিয়ে মিনা আক্তার রাস্তার পাশে ঝোঁপের কাছে গেছে শিশুটিকে ঝোঁপের ভেতর পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় মিনা আক্তার শিশুটিকে ঝোঁপের ভেতর থেকে উদ্ধার করে পুলিশকে খবর দেন এবং পুলিশের পরামর্শে ওই শিশুটির নাড়ি কাটেন। এদিকে কেন্দুয়া থানার এসআই আবুল হাসেম ও এসআই মোশারফ হোসেন শিশুটিকে বেলা ১১টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন।
 
শিশুটির চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. আশরাফুজ্জামান জানান, বর্তমানে শিশুটি আশঙ্কা মুক্ত। তবুও শিশুটির সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
 
কেন্দুয়া থানার ওসি মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, শিশুটি বর্তমানে উপজেলা সমাজসেবা অফিসের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। পরবর্তীতে এ বিষয়ে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
 
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুকতাদিরুল আহমেদ জানান, স্বাধীনতার মাসে পাওয়া অজ্ঞাতপরিচয় নবজাতকের নাম রেখেছি ‘স্বাধীন আহমেদ’। শিশুটিকে বর্তমানে উপজেলা সমাজসেবা অফিসের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে তার পরিচয় পাওয়া গেলে তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হবে। নতুবা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি