শেয়ারবাজারে দরপতন কিছুতেই থামছে না

আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০১৯, ২১:৩৪

কাজে আসছে না বিএসইসির কোনো উদ্যোগ

রেজাউল হক কৌশিক

শেয়ারবাজারে দরপতন ঠেকাতে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। তবে তাদের কোনো উদ্যোগই কাজ করছে না। শেষ পর্যন্ত গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও দেখা করেছেন বিএসইসি চেয়ারম্যান। যদিও সপ্তাহের শেষ দিন গত বৃহস্পতিবার শেয়ারবাজারের সূচক কিছুটা বেড়েছিল। গতকাল আবারো শেয়ারবাজারে দরপতন হয়েছে। দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সবকটি মূল্যসূচকের পতনের ধারা অব্যাহত রয়েছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আগের সপ্তাহে রবিবার থেকে বুধবার পর্যন্ত টানা চার কার্যদিবস বড় দরপতন হয়েছে। চলতি সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস সোমবারেও শেয়ারবাজারে পতন হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলা নতুন বছরের প্রথম থেকে পতন শুরু হলো।

মূল্য সূচকের পতনের পাশাপাশি দেখা দিয়েছে লেনদেন খরা। ডিএসইর লেনদেন একবারে কমে গিয়েছে। গতকাল ২০০ কোটি টাকার ঘরে সীমাবদ্ধ ছিল লেনদেন। এর মাধ্যমে এ বাজার টানা তিন কার্যদিবস লেনদেনের পরিমাণ তিনশ কোটি টাকার ঘর স্পর্শ করতে পারলো না। আর এক মাসের বা ১৯ কার্যদিবসের মধ্যে ডিএসইর লেনদেন পাঁচশ কোটি টাকার ঘর স্পর্শ করতে পারেনি।

শেয়ারবাজারের এমন দুরবস্থার কারণে অল্প অল্প করে পুঁজি হারাচ্ছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ও চরম আস্থাহীনতা দেখা দিয়েছে। টানা দরপতনের কারণে গত সপ্তাহ জুড়েই ব্রোকারেজ হাউজ ছেড়ে ডিএসইর সামনে বিক্ষোভ করেছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। বিনিয়োগকারীদের বিক্ষোভের মুখে গত মঙ্গলবার দফায় দফায় বৈঠকে বসে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা। বৈঠকের মাধ্যমে দরপতন ও তারল্য সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকের পক্ষ থেকে বিএসইসির কাছে বেশ কিছু দাবি জানানো হয়।

বিএসইসির পক্ষ থেকে ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংক প্রতিনিধিদের কিছু দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। তারপরও দরপতনের মধ্যেই আবদ্ধ থাকে শেয়ারবাজার। গত বুধবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিএসইসির চেয়ারম্যান সাক্ষাত্ করেন। এ সময় শেয়ারবাজারের বর্তমান মন্দাবস্থা দূর করতে করণীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য, বিএসইসি চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। একইসঙ্গে বাজারের স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে আনতে অর্থ মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও বাংলাদেশ ব্যাংককে পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিএসইর চেয়ারম্যানের সাক্ষাতের সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার বাজার কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হয়। তবে লেনদেন ২০০ কোটির ঘরেই আবদ্ধ ছিল। এরপর পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকায় গত রবিবার শেয়ারবাজারের লেনদেন বন্ধ ছিল। সে হিসাবে আজই চলতি সপ্তাহের এবং বাংলা নতুন বছরের প্রথম কার্যদিবস।

গত বছরের শেষ কার্যদিবসে ঊর্ধ্বমুখী হলেও নতুন বছরের শুরুতে তা অব্যাহত থাকেনি। গতকাল সোমবার দুই বাজারেই লেনদেনে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দরপতন হয়েছে। দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে ১০৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ে। বিপরীতে দাম কমেছে ১৯৩টির। আর অপরিবর্তিত ছিল ৪১টির দাম।

বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম কমায় ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের তুলনায় ১৬ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৩০৯ পয়েন্টে নেমে গেছে। অপর দুটি সূচকের মধ্যে ডিএসই-৩০ আগের দিনের তুলনায় ১ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৯০১ পয়েন্টে এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৪ পয়েন্ট কমে এক হাজার ২২৮ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

মূল্য সূচকের এ পতনের দিনে ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। গতকাল ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ২৯৬ কোটি ২ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ২৮৪ কোটি ১৮ লাখ টাকা। সে হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ১১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। টাকার অঙ্কে এ দিন ডিএসইতে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে ফরচুন সুজের শেয়ার। কোম্পানিটির ৩৩ কোটি ৯১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর পরেই রয়েছে মুন্নু সিরামিক। কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২২ কোটি ২৯ লাখ টাকার। ১০ কোটি ৫০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের পরেই রয়েছে বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলস।

লেনদেনে এরপর রয়েছে—ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যাল, এস্কয়ার নিট, লিবরা ইনফিউশন, গ্রামীণফোন, মুন্নু জুট স্টাফলার্স এবং ইস্টার্ন কেবলস।

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্য সূচক সিএসসিএক্স ১৪ পয়েন্ট কমে ৯ হাজার ৮৫৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৯ কোটি ৯ লাখ টাকা। লেনদেন হওয়া ২১৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭৯টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ১০৮টির। আর দাম অপরিবর্তিত ছিল ৩২টির।