রোহিঙ্গাদের আরো সহায়তা দিতে আশ্বাস বিশ্বব্যাংকের
আলাউদ্দিন চৌধুরী, ওয়াশিংটন থেকে
বাংলাদেশের জন্য বিশ্বব্যাংকসহ উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে আরো সহায়তা চাইলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, আমরা এখন অর্থনৈতিক উত্তরণ পর্যায়ে রয়েছি। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখার জন্য আরো বেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন। বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন। ওয়াশিংটনে চলমান বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বসন্তকালীন সভা উপলক্ষে ডিএফআইডির মহাপরিচালক লিন্ডে ক্যামেরন, বিশ্বব্যাংকের সিইও ক্রিস্টালিনা জর্জিভার সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংক তাদের সহায়তার ধারাবাহিকতার বিষয়ে বলেছে। আমরা বলেছি এখন আমাদের সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন শিক্ষা খাতে। কারণ পরিবর্তিত বিশ্ব প্রেক্ষাপটে আমাদেরকে রোবটিক্স, কোয়ান্টাম সাইন্স, ন্যানো টেকনোলজির মতো বিষয়গুলো শিখতে হবে। এজন্য শিক্ষা খাতে বড় বিনিয়োগ করতে হবে। আগামী ৫ বছর এবং বিশ বছরে বাংলাদেশের কত অর্থের প্রয়োজন সে বিষয়ে উন্নয়ন সহযোগীদের জানানো হয়েছে। তারা সহায়তার ধারাবাহিকতা রাখবে বলে আশ্বস্ত করেছেন। এসময় অর্থসচিব রউফ তালুকদারসহ অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বসন্তকালীন সভার বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, ইআরডি সচিব মনোয়ার আহমেদ প্রতিনিধি দলে রয়েছেন।
এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য বিশ্বব্যাংক সহায়তা অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছে। বাংলাদেশ মানবিক কারণে তাদের সহায়তা করে যাচ্ছে। ১৯১৭ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রায় ১ কোটি বাংলাদেশিকে সহায়তা করেছে ভারত। মানবিক দিক বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছেন। তাদের মানবিক সহায়তা দিতে আশ্বস্ত করছে বিশ্বব্যাংক। এর পরেও সরকারিভাবে তাদের সহায়তা করা হচ্ছে। প্রয়োজনে আরো সহায়তা করা হবে।
রবিবার শেষ হয়েছে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বসন্তকালীন সভা। আগামী অক্টোবরে ওয়াশিংটনেই বার্ষিক সভা অনুষ্ঠিত হবে।
প্রসঙ্গত, আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ছে। সর্বশেষ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে বৈদেশিক বাণিজ্যের ভারসাম্যে (ব্যালেন্স অব পেমেন্ট) ঘাটতি রয়েছে। অর্থবছরের প্রথম আট মাস জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি মাসে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৬৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার বা ১০ বিলিয়ন ডলারের ওপরে। এ আট মাসে আমদানি বাবদ তিন হাজার ৭৮৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার ব্যয় হয়েছে। অন্যদিকে রপ্তানি হয়েছে দুই হাজার ৭১৪ কোটি ৪০ লাখ ডলারের। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রপ্তানি ১২ দশমিক ৪৪ শতাংশ বাড়লেও আমদানি বেড়েছে ৫ দশমিক ৬৪ শতাংশ। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জানুয়ারি মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ৯৬৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার। সে হিসাবে এক মাসের ব্যবধানে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে এক বিলিয়ন (১০০ কোটি) ডলারের বেশি।
