বগুড়ায় পৌর মেয়রের অফিসে ঠিকাদারের হামলা ও ভাংচুর

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০১৮, ১৭:৩৪
বগুড়ায় পৌরসভার মেয়রের কার্যালয়ে হামলা ও ভাংচুর হয়েছে। কার্যাদেশে স্বাক্ষর করতে বিলম্ব করার অভিযোগে বগুড়া পৌরসভার মেয়রের কক্ষে এই ভাঙচুর চালিয়েছেন বগুড়া শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ও প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার আব্দুল মান্নান। রবিবার সকালে পৌরভবনে এ ঘটনা ঘটে।
 
এসময় ঠিকাদার আব্দুল মান্নান মেয়রের কার্যালয়ের দরজা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে মেয়রের চেয়ারে বসেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এসময় মেয়র অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান সেখানে ছিলেন না। এদিকে অভিযুক্ত ঠিকাদার দরজায় তার লাথি লেগে কিছুটা ভেঙ্গে গেছে বলে স্বীকার করলেও মেয়রের চেয়ারে বসার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
 
পৌরসভার কর্মকর্তারা জানান, সকাল পৌনে ১০টার দিকে ঠিকাদার আব্দুল মান্নান তার কয়েক সঙ্গীকে নিয়ে আকস্মিকভাবে পৌরভবনে যান। এসময় কার্যাদেশ না দেয়ার কারণ জানতে চেয়ে উত্তেজিত হয়ে মেয়রের কক্ষে প্রবেশের মুখে লাগানো থাই এ্যালুমিনিয়াম সিটের নির্মিত দরজায় লাথি মেরে ভেঙ্গে ফেলেন এবং ভিতরে প্রবেশ করেন। তারপর মেয়রের চেয়ারে বসে সে তার ঠিকাদারি ফাইল তলব করে। পরে পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী আবুজাফর রেজা তাকে মেয়রের চেয়ার থেকে উঠতে বললে, ওই ঠিকাদার আশালীন ভাষায় মেয়র ও পৌরকর্মকর্তাদের গালিগালাজ করে করেন। এতে পৌর সভার প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তাসহ কর্মচারীরা ভীত হয়ে পড়েন। এমনকি ঠিকাদার মেয়রের চেয়ারে বসে চা পান করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে ওই ঠিকাদার তার লোকজন নিয়ে চলে যান।
 
পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী আবুজাফর রেজা মেয়রের চেয়ারে বসে ওই ঠিকাদারের চা পান ও গালিগালাজের বিষয়টি উল্লে­খ করে সাংবাদিকদের জানান, ওই ঠিকাদার টেন্ডারের ওয়ার্ক ওয়ার্ডারের দাবি করেছিলেন।
 
পৌর মেয়রের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা আমির হোসেন জানান, সকাল পৌনে ১০টার দিকে ঠিকাদার আবদুল মান্নান আকন্দ মেয়র একেএম মাহবুবর রহমানের কক্ষে ঢুকে তার খোঁজ করেন এবং তিনি কেনো এখনো কার্যাদেশে স্বাক্ষর করেন নি তা জানতে চান। এসময় পৌরসভার কর্মকর্তারা তাকে জানান, মেয়র ঢাকায় রয়েছেন। এসময় ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি কক্ষের দরজায় লাথি দিয়ে ভাঙচুর চালান। পরে পুলিশ সদস্যরা তাকে নিবৃত্ত করেন।
 
এব্যাপারে পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট মাহবুবর রহমান জানান, তিনি ঢাকায় রয়েছেন। বিষয়টি জানতে পেরে পৌর সভার সচিবকে লিখিতভাবে পুলিশকে জানাতে বলেছেন।
 
পৌরসভার সচিব ইমরোজ মুজিব জানান, থানায় অভিযোগের প্রক্রিয়া চলছে। বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এমদাদ হোসেন জানান, তারা প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন। অভিযোগ পেলে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি