নারী প্রধান শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় স্কুলের সভাপতিকে অপসারণ

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০১৮, ২২:৩৬
গৌরীপুরে আমির উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহাবুবা আক্তারকে মারধরের ঘটনায় রবিবার স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আবু সাঈদ আহামেদকে পদ থেকে অপসারণ ও কমিটি ভেঙে দেয়া হয়েছে। ঘটনা তদন্তে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা জহির উদ্দিনকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
 
বুধবার আবু সাঈদ আহমেদ স্কুলের বরাদ্দকৃত স্লিপের টাকা নিয়ে প্রধান শিক্ষক মাহাবুবা আক্তারকে বিদ্যালয়ের ভেতর মারধর করেন। বিষয়টি নিয়ে শুক্রবার দৈনিক ইত্তেফাকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পর রবিবার দুপুরে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জুয়েল আশরাফের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল স্কুল পরিদর্শন করেন। ম্যানেজিং কমিটির মেয়াদ উর্ত্তীণ হওয়ায় ও অপ্রীতিকর ঘটনার জন্য সভাপতির পদ থেকে আবু সাঈদ আহমদকে অপসারণ করে কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার ফারজানা জান্নাত খানকে আহ্বায়ক করে নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।
 
প্রধান শিক্ষিকা লাঞ্ছিত হওয়া ও প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে সভাপতির দেয়া অভিযোগ তদন্তের জন্য উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মো. জহির উদ্দিনকে প্রধান করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ৭ কর্মদিবসের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
 
আবু সাঈদ আহমদ বলেন, স্থানীয় এলাকাবাসী, ইউপি চেয়ারম্যান ও গণ্যমান্যদের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসা হয়ে গেছে। আর সভাপতির পদ থেকে আমাকে অপসারণ করা হয়নি। কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ায় নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে।
 
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জুয়েল আশরাফ বলেন, ম্যানেজিং কমিটির মেয়াদ উর্ত্তীণ হওয়ায় আবু সাইদকে তার পদ থেকে অপসারণ করে কমিটি ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে এবং তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
 
গৌরীপুর থানার ওসি (তদন্ত) তারিকুজ্জামান জানান, ঘটনা তদন্তে করতে গিয়ে দেখি চেয়ারম্যানসহ কিছু লোকজন বিদ্যালয় মাঠে বসা। প্রধান শিক্ষিকাকে মারধরের ঘটনাটি অধর্তব্য হওয়ায় বিজ্ঞ আদালতে অনুমতির জন্য প্রেরণ করা হয়েছে। তদন্ত চলছে।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি