দৌলতদিয়ায় সরু চ্যানেলে ঝুঁকি নিয়ে চলছে লঞ্চ ও ফেরি

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০১৮, ০১:৩২

দৌলতদিয়ায় সরু চ্যানেলের কারণে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে ফেরি ও লঞ্চ। যে কোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। চ্যানেলটি আরো প্রশস্ত হলে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হতো না বলে সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য। খননের মাধ্যমে চ্যানেল প্রশস্তের দাবি জানান। তবে খনন বিভাগের মতে আপাতত চ্যানেল প্রশস্ত করার কোনো সম্ভাবনা নেই।

বিআইডব্লিউটিসি ও বিআইডব্লিউটিএ’র তথ্যমতে, দৌলতদিয়া লঞ্চঘাট থেকে সবচেয়ে নিকটে বা প্রথমে রয়েছে এক নম্বর ফেরিঘাট। এই এক নম্বর ফেরিঘাটের দূরত্ব প্রায় এক হাজার ফুট। এর প্রায় ৬৫০ ফুট দূরত্ব বজায় রেখে আরো দুটি ফেরিঘাট রয়েছে। সে হিসেবে লঞ্চঘাট তিন নম্বর পর্যন্ত ফেরিঘাটের দূরত্ব প্রায় ২৩০০ ফুট। ২৩০০ ফুট চ্যানেলের প্রশস্ততা কম থাকায় ঘাটের পন্টুনে ফেরি ভেড়ানোর পর বিশেষ করে পন্টুনের কনভেনশনালে ফেরি লাগানো থাকলে চ্যানেলের প্রায় অর্ধেকের বেশি জায়গা আটকে যায়।

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে দেখা যায়, মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া থেকে আসা একাধিক ফেরি ও লঞ্চঘাটের কাছে আসামাত্র ইঞ্জিনের গতি কমে আসছে। এসময় পাশ দিয়ে লঞ্চঘাট থেকে যাত্রী বোঝাই পাটুরিয়াগামী লঞ্চ খুব সতর্কতার সাথে ও ধীরগতিতে যাচ্ছিল। লোড নেওয়ার পর চ্যানেলে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় ছাড়তে পারছিল না। পাশাপাশি পিছন দিকে একাধিক ফেরি-লঞ্চ অপেক্ষা করছিল। ঘাটের কিছুদূরে একটি ড্রেজার ও পাইপ বসানো ছিল।

ফেরি বনলতার মাস্টার লিয়াকত উজ্জামান জানান, চ্যানেল সরু হওয়ায় ইঞ্জিনের গতি কমিয়ে আনতে হয়। সতর্কতার পরও মাঝে-মধ্যে ফেরি বা লঞ্চের সাথে টুকটাক ধাক্কা বা আঘাত লেগে যায়। একটু অসাবধান হলেই বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে খননের মাধ্যমে চ্যানেল আরো প্রশস্ত করা প্রয়োজন।

দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ছেড়ে আসা তিতাস লঞ্চের মাস্টার সিদ্দিকুর রহমান বলে, পানির গভীরতা মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও চ্যানেলের চওড়া (প্রশস্ত) খুবই কম। যে কারণে চ্যানেলের ভিতর থাকা তিনটি ফেরিঘাট অতিক্রম করে লঞ্চঘাটে আসা-যাওয়া করতে হয়। কারণ যেকোনো মুহূর্তে ফেরির সাথে সংঘর্ষ বেঁধে গেলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম জানান, দৌলতদিয়ার তিনটি ঘাটই চ্যানেলের ভিতর অবস্থিত। ১ থেকে ৩ নম্বর পর্যন্ত ঘাটের চ্যানেলের প্রশস্ততা কম থাকায় ঝুঁকি নিয়ে ফেরিগুলো চলাচল করছে। চ্যানেল দিয়ে ফেরি ও লঞ্চ পাশাপাশি ইঞ্জিনচালিত ট্রলার অহরহ চলায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএ’র খনন বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আক্কাছ মোল্যা জানান, চ্যানেলটির প্রশস্ততা রয়েছে ৩৬০ফুট এবং পানির গভীরতা রয়েছে ১০ থেকে ১১ ফুট করে। এ অবস্থায় চ্যানেলের প্রশস্ততা বা গভীরতা বাড়ানোর প্রয়োজন নেই। তারপরও চ্যানেলের মুখ প্রশস্ত রাখতে আমাদের একটি ড্রেজিং রেখে কাজ করে যাচ্ছি।

ইত্তেফাক/নূহু