কোন কিছুতেই থামছে না জয়পুরহাটের আক্কেলপুর পৌরসভার শ্রীকৃষ্টপুর গ্রামের ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন। প্রশাসন বালু উত্তোলন বন্ধে অভিযান পরিচালনা করেও ঠেকাতে পারছে না প্রভাবশালীদের রমরমা বালু ব্যবসা। এতে হুমকির মুখে পড়েছে মাঠের ফসলি জমিগুলো।
ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই পৌরসভার শ্রীকৃষ্টপুর গ্রামের পদ্দবিলা মাঠ থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এস্কেভেটর দিয়ে গত কয়েকদিন ধরে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী। গভীর করে মাটি ও বালু উত্তোলনের ফলে পাশের জমিগুলো ভেঙে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে মাঠ থেকে একের পর এক গভীর করে বালু ও মাটি কেটে নিয়ে যাওয়ায় চিন্তিত হয়ে পড়েছে কৃষক। জমির মালিকরাও বাধ্য হচ্ছেন বালু ব্যবসায়ীদের কাছে তাদের জমি বিক্রি করতে। ইতোমধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই এলাকায় পর পর দুটি অভিযান পরিচালিত হয়। কয়েকমাস যেতে না যেতেই আবার ওই এলাকার মাঠ থেকে বালু উত্তোলন শুরু হয়েছে। গত কয়েক মাসে ওই এলাকার মাঠের বেশ কিছু ফসলি জমি পুকুরে পরিণত হয়েছে। বালু ব্যবসায়ীরা প্রভাবশালী হওয়ায় কৃষকেরা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিতেও সাহস পাচ্ছে না।
শ্রীকৃষ্টপুর গ্রামের কৃষক লিটন হোসেন বলেন, 'আমার আর আমার বড় ভাই মোহাম্মদ আলীর পদ্দবিলা মাঠে একই স্থানে প্রায় ২০ শতক জমি রয়েছে। আমার বড় ভাই স্থানীয় হাবু হোসেন নামে এক ব্যক্তির কাছে জমির বালু বিক্রি করেছেন। আমি বিক্রি করিনি। তবে ভাইয়ের জমি থেকে যেভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে, তাতে আমার জমিটা হুমকিতে রয়েছে। একটু বৃষ্টি হলেই ধসে যাবে। বালু উত্তোলন বন্ধ করা দরকার। তা না হলে মাঠের সব জমি একে একে পুকুরে পরিণত হবে।'
স্থানীয় বাসিন্দা হাবু হোসেন বলেন, 'আমি জমি কিনে এক বালু ব্যবসায়ীর কাছে দিয়েছি। তারা কী করছে আমি জানি না। আমি বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত নই।' এ ব্যাপারে আক্কেলপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাহমিনা রহমান বলেন, 'খবর পেয়ে ওই স্থানে অভিযান পরিচালনার জন্য গিয়েছিলাম। আমাদের গাড়ি যাওয়া দেখে তারা পালিয়েছে।'
উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কমল বলেন, 'শ্রীকৃষ্টপুর গ্রামের মাঠে বালু উত্তোলনের বিষয়ে অভিযান পরিচালনা করার কথা। পরে বালু উত্তোলনকারীদের সঙ্গে ইউএনও'র কথা হয়েছে। তিনি বালু উত্তোলন না করার জন্য নিষেধ করেছেন।'
ইত্তেফাক/এসএস
