এক যুগ ধরে শেকলে বাঁধা এই নারী

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০১৮, ২০:২৭
মানসিকভাবে অসুস্থ এক নারীকে প্রায় এক যুগ ধরে শেকল দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখার অভিযোগ ওঠেছে তার পরিবারের বিরুদ্ধেই। ওই নারীর নাম বাসন্তী রানী (৩১)। দীর্ঘদিন ধরে শেকল দিয়ে গাছের সাথে বেঁধে রাখায় শারিরীক ও মানসিক নানান রোগে ভুগছেন ওই নারী। অমানবিক এই ঘটনাটি ঘটেছে পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার দেবীডুবা ইউনিয়নের লক্ষীরহাট-ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে। 
 
বাসন্তিকে ছেড়ে দিলে অন্যের জিনিসপত্র চুরি করে এবং অন্যের কিছু হারালে চুরি না করেও অপবাদ সইতে হয় পরিবারের সদস্যদের। অন্যের কথা যেন শুনতে না হয়, তাই তাঁকে বেঁধে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। লক্ষীরহাট-ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের বৃদ্ধ হরিপদ কর্মকারের দুই মেয়ে এক ছেলের মধ্যে বাসন্তী দ্বিতীয়। বৃদ্ধ হরিপদর নিজের ভিটে বাড়ি ৮ শতক জমি ছাড়া আর তেমন কিছুই নেই। কামারের কাজ করে অনেক কষ্টে চলে তাদের সংসার। 
 
হরিপদ কর্মকার জানান, অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছিলেন বাসন্তি। ২০০৫ সালে বড় বোন গীতা রানীর বিয়ের পর তাকে হত্যা করে তার শ্বশুর বাড়ির লোকজন। এসময় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে অষ্টাদশী বাসন্তী। এরপর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে (ব্র্যাক) কিশোরীদের স্বাস্থ্য পরিচর্যা সংক্রান্ত একটি প্রকল্পের চাকরিও নেন তিনি। পরে রাজশাহীতে চলে যান ট্রেনিংয়ে। ট্রেনিং থেকে ফিরেই মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। মাঝে মাঝে তার মৃগী রোগ দেখা দিত। এমন অবস্থায় মানুষের বাড়িতে চুরি করছে এই অপবাদে ২০০৬ সাল থেকে দিনের বেলা বেঁধে রাখা হচ্ছে বাড়ির পাশে একটি কাঁঠাল গাছে। 
 
পায়ে শিকল পড়া অবস্থায় নিজেকে সুস্থ দাবি করলেন ওই নারী। এছাড়া তিনি লিখতে পারেন নিজের নাম ঠিকানাও। প্রতিবেশীরা বললেন, তাকে নাকি পাবনা মানসিক হাসপাতালেও নেওয়া হয়েছিল। তবে সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মানসিক সমস্যা নেই বলে জানিয়েছে চিকিৎসকরা। প্রতিবেশী শিউলি আক্তার জানান, ‘বাসন্তীকে দিয়ে সকালে ওর ছোট ভাইয়ের বৌ কিছু গৃহস্থালী কাজ করিয়ে নেয়। ভাল করে কাজ করতে পারে না। তারপর বেঁধে রাখে সারাদিন। মেয়েটির জন্য আমাদেরও কষ্ট হয়। 
 
বাসন্তীর বাবা হরিপদ কর্মকার আরও জানান, ওকে ছেড়ে দিলে মানুষের অভিযোগের জন্য আমরা বাড়িতে থাকতে পারি না। মানুষের অভিযোগের জন্য বেঁধে রাখতে হয়।’ 
 
দেবীডুবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক জানান, ‘আমি বাসন্তীকে বছরের পর বছর শেকল দিয়ে বেঁধে রাখার বিষয়টি জানতাম না। আমি খোঁজখবর নিয়ে শেকল খুলে দেয়াসহ তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করব।’
 
ইত্তেফাক/কেআই