তারাগঞ্জে শত্রুতা করে একটি পোল্ট্রি খামারে বিষ প্রয়োগ করে প্রায় ৬ শতাধিক মুরগি বাচ্চা হত্যা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রাণী হত্যার এ ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের শেরমস্ত চৌধুরীপাড়া এলাকায়।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আলমপুর গ্রামের শেখ কামাল উদ্দিন কয়েক বছর আগে বাড়ির পাশে একটি মুরগির খামার গড়ে তোলেন। ভালোভাবেই চলছিল তার খামারটি। এরমধ্যে একই এলাকার মাহাবুব হোসেন, মজনু মিয়া, আতিকুর রহমান ও সাদেক ইসলামের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ ঘটনার জের ধরে গত ২ মার্চ শেখ কামাল তার পৈত্রিক জমির সীমানা মাপ দিতে গেলে একই গ্রামের মাহাবুব রহমান ও তার ভাইদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে দেশিয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে শেখ কামালের পরিবারের ওপর হামলা করে তারা। এসময় জমি জোরপূর্বক দখল নেয়ার চেষ্টাও করা হয়। এতে এলাকার লোকজন মাহাবুব ও তার লোকজনকে বাধা দেয়।
শেখ কামালসহ তার পরিবারের লোকজনকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে চলে যায় তারা। এ ঘটনায় পরের দিন স্থানীয়ভাবে শালিস বৈঠক করা হলেও ঘটনার সুরহা না হওয়ায় শেখ কামাল ১৬জনকে অভিযুক্ত করে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন।
মঙ্গলবার রাতে শেখ কামাল খামারে মুরগির বাচ্চার খাদ্য দিয়ে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। বুধবার সকালে খামারে এসে দেখতে পান খামারের ভেতর প্রায় ৬ শতাধিক মুরগির বাচ্চা মরে গেছে। মুরগি হত্যার জন্য তিনি জমি সংক্রান্ত ঘটনাকে দায়ী করেন।
পোল্ট্রি খামারের চিকিসৎক নয়ন রহমান ও বেসরকারি এসিআই কেম্পানির দায়িত্বরত চিকিৎসক পলাশ রহমান বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বিষ প্রয়োগ করে মুরগির বাচ্চাগুলো হত্যা করা হয়েছে। কারণ এক রাতের ব্যবধানে এতো মুরগির বাচ্চা মরে যাওয়ার কথা নয়।’
অভিযুক্ত মাহাবুব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমাদের ফাঁসানোর জন্য মিথ্যা দুর্নাম দেয়া হচ্ছে। এ ঘটনার সঙ্গে আমাদের কোন সম্পৃক্ততা নেই। তারাগঞ্জ থানার ওসি জিন্নাত আলী বলেন, ঘটনাটি মৌখিকভাবে শুনেছি। কিন্ত ওই খামারীর পক্ষে এখনও কেউ লিখিত অভিযোগ করে নাই।
ইত্তেফাক/আরকেজি
