হারিয়ে যাচ্ছে লোহাগাড়ার খাল-ছড়া

আপডেট : ০৮ মার্চ ২০১৮, ১০:০১
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে প্রায় ১৩টি খাল। জানা গেছে, ডলু, টংকা, হাঙ্গর, চাম্বি, হাতিয়ার, জামছড়ি, রাতার, কুলপাগলি, থমথমিয়া, সুখছড়ি, ধুইল্লা, সরই, বোয়ালিয়া খালসহ বিভিন্ন ছড়া উপজেলার ৯টি ইউনিয়নকে বিভক্তসহ সৃজিত করেছে। আর ডলু, টংকা ও হাঙ্গর উপজেলার অন্যতম খাল। প্রধান এ তিনটি খাল পার্বত্য চট্টগ্রামের লামা থেকে উৎপত্তি হয়েছে।
 
এসব খাল-ছড়া উপজেলা অভ্যন্তরে আঁকা-বাঁকা পথে প্রবাহিত হয়ে এলাকার সৌন্দর্যকে বৃদ্ধি করেছে। খাল-ছড়াগুলো লোহাগাড়ার মাটি ও মানুষের উন্নয়ন এবং জীবন-জীবিকার সাথে ওতপ্রোতভাবে। বর্তমানে এসব খাল-ছড়াগুলোর অস্তিত্ব বিলীন হতে চলেছে। ফলে এগুলো কৃষক, জেলেসহ সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসীর তেমন কোন উপকারেই আসছে না। শুধু নামেই খাল-ছড়াগুলো টিকে আছে। বুঝা যায় না এরা খাল-ছড়া নাকি জমি। ভরা বর্ষা মৌসুমে পানি থাকা দূরের কথা শুষ্ক মৌসুমে খাল পাড়ের মানুষ আমন-বোরোসহ অন্যান্য ফসলের চাষাবাদ করতে পারে না। বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এলাকাবাসী। খালগুলো ভরাট, বেদখল ও নাব্যতা হারিয়ে যাওয়ায় বোরো মৌসুমে সেচ সংকট ও বর্ষা মৌসুমে খালের পাড়-তীর ভেঙে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়ে শত-শত ঘর-বাড়ি ডুবে যায়। অথচ এক সময় ডলু-টংকা-হাঙ্গর খালসহ অন্যান্য খাল দিয়ে বান্দরবানের পাহাড়ি অঞ্চলের গাছ-বাঁশ ও মালামাল এবং বাঁশের ভেলায় পণ্যবোঝাই হয়ে বিভিন্নস্থানে যেত। খাল-ছড়া থেকে মৎস্য আহরণ করে শত শত জেলে পরিবার জীবিকা নির্বাহ করত। এমনকি এসব খাল-ছড়ার তীরবর্তী ৩৫টি গ্রামের ৪০ হাজার পরিবার কৃষির উপর নির্ভরশীল।
 
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার কিছু খাল-ছড়ার অস্তিত্ব না থাকলেও ডলু-টংকাসহ প্রধান খালগুলোর অস্তিত্ব বিলীন হতে চলেছে। খালের অধিকাংশ স্থানে ভরাট হয়ে শুকিয়ে গেছে। কোন কোন স্থানে খালের বুক-পাড় সমান হয়ে গেছে। আবার অনেক স্থানে খাল মুছে গেছে। আর এ সুযোগে দখলদারেরা খাল দখল করে নিয়েছে। অন্যদিকে খালে জেগে উঠা বালি দিয়ে চলছে ব্যবসা। এতে করে সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব এবং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এলাকাবাসী। চাষিরা জানান, শুষ্ক মৌসুমে প্রথম দিকে খালের পানি দিয়ে বীজতলা ও বোরো-রবি আবাদ করা গেলেও পরে বোরো-রবি চাষ সেচ সমস্যায় পড়ে।
 
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রমতে, উপজেলায় মোট চাষযোগ্য জমির পরিমাণ রয়েছে, ১১হাজার ৫শ' হেক্টর। এর মধ্যে সেচকৃত জমি ৫ হাজার ১৫০ হেক্টর। আর এ বছর বোরো চাষ হয়েছে ৩ হাজার ৬৫০ হেক্টরে। সবজী চাষ হয় ১ হাজার ৫ শ' হেক্টরে। সেচবিহীন জমি ৩ হাজার ১ শ' হেক্টর। পতিত জমি রয়েছে ৩ হাজার ৫৬ হেক্টর।
 
উপজেলা কৃষি অফিসার শামীম হোসেন জানান, লোহাগাড়ার খাল-ছড়াগুলোর দু‘পাশ দখল ও ভরাট হয়ে গেছে। কৃষক ও এলাকাবাসীর উপকারের জন্য খালগুলো পুনরুদ্ধার ও সংস্কার  প্রয়োজন। খালগুলো সংস্কার হলে পানির ধারণ ক্ষমতা বাড়বে এবং লাভবান হবে কৃষকরা। আর শুষ্ক মৌসুমে বোরো চাষসহ বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
 
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহবুব আলম জানান, উপজেলার খাল-ছড়াগুলো দখল সংক্রান্ত কোন অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন বলে তিনি জানান।
 
ইত্তেফাক/এসএস