নারায়ণগঞ্জের মেডিস্টার জেনারেল হাসপাতালে আবারো প্রসুতির মৃত্যু হয়েছে। তার নাম সাদিয়া জাহান ঝুমা (২৬)। বাসা শহরের উত্তর মাসদাইর এলাকায়। নিহতের স্বামীর নাম কামরুল হাসান শরীফ। এ ঘটনায় নিহতের স্বজনরা হাসপাতালে ভাংচুর চালিয়েছে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে হাসপাতালে মালিক, ম্যানেজার, স্টাফরা পালিয়ে যায়। পুলিশ ডা. অমল কুমার পোদ্দারসহ ৫জনকে আটক করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শহরের ডনচেম্বার মেডিস্টার জেনারেল হাসপাতালে।
নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, গত ১০ মাস ধরে সাদিয়া জাহান ঝুমা ডা. অমল কুমার পোদ্দারের তত্ত্বাধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বৃহস্পতিবার ভোর রাতে প্রসব ব্যথা উঠলে স্বজনরা তাকে সকাল ৬টায় মেডিস্টার হাসপাতালে নিয়ে আসে। পরে তাকে ওটি (অপারেশন) রুমে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ডা. অমল কুমার পোদ্দারের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের টিম তাকে সিজার (অেপরারেশন) করেন। সকাল ৭টা ১০ মিনিটে সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। দুপুর ১টার দিকে রোগীর স্বজনদের জানানো হয় সাদিয়া জাহান মারা গেছে। রোগী মারা যাওয়ার ঘটনায় নিহতের স্বজনরা হাসপাতালে ভাংচুর চালায়। খবর পেয়ে দুপুর ২টার দিকে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি (অপারেশন) জয়নাল আবেদীন ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এবং ডা. অমল কুমার রায়সহ ৫জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যান।
ডা. অমল কুমার পোদ্দারের দাবি করেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে রোগী মারা গেছে। তবে স্বজনরা বলছেন রোগীকে ডাক্তারের পরামর্শে ৭ব্যাগ রক্ত দেয়া হয়েছে। দায়িত্বরত নার্সরা জানিয়েছেন, সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর ডাক্তার চলে যান। পরে রোগীর রক্তক্ষরণ শুরু হয়।
ইত্তেফাক/আরকেজি
