বেনাপোল সীমান্তে ৮.৩ কি.মি. এলাকা অপরাধমুক্ত ঘোষণা হতে যাচ্ছে

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০১৮, ১০:৫৮
যশোরের বেনাপোল সীমান্ত ও শার্শা উপজেলার বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের ৮ দশমিক ৩ কিলোমিটার এলাকা প্রথমবারের মতো 'ক্রাইম ফ্রি জোন' বা অপরাধমুক্ত এলাকা ঘোষণা করা হবে। আজ শুক্রবার দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে এ ঘোষণাটি করা হবে।
 
প্রথমে দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে যশোরের শার্শা সীমান্তের বিপরীতে ভারতের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বনগাঁও সীমান্তে ৬৪ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কল্যাণী বিওপি এর দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় ওই 'ক্রাইম ফ্রি জোন' উদ্বোধন করা হবে। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত  থাকবেন যশোর-১ আসনের সাংসদ শেখ আফিল উদ্দিন, ভারতের লোকসভার এমপি (বনগাঁও) শ্রীমতি মমতা ঠাকুর, পশ্চিমবঙ্গের বিধায়ক (বনগাঁও-উত্তর) শ্রী বিশ্বজিত দাস , বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন, বিএসপি, বিজিবিএম, এনডিসি, পিএসসি, পি ইঞ্জ, বিএসএফ মহাপরিচালক শ্রী কে কে শর্মা, আইপিএস , বিজিবি ও বিএসএফ এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং উভয় দেশের স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ।
 
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে ভারতের নয়াদিল্লীতে অনুষ্ঠিত বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধের কৌশল হিসেবে সীমান্তের অপরাধ প্রবণ এলাকা 'ক্রাইম ফ্রি জোন' ঘোষণার প্রস্তাব উত্থাপন করেন।বিএসএফ মহাপরিচালক শ্রী কে কে শর্মা উক্ত প্রস্তাবের প্রশংসা করেন এবং 'ক্রাইম ফ্রি জোন' বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বৈঠকে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
 
এরই ধারাবাহিকতায় উভয় দেশের সম্মতিতে যশোরের বেনাপোল সীমান্তের পুটখালী ও দৌলতপুর বিওপি এর দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এবং বিপরীত দিকে ভারতের কল্যাণী ও গুনারমঠ বিওপি এর দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকার (বর্ডার পিলার নম্বর ১৭/১৪৩-আর হতে ১৭/১৮১-আর পর্যন্ত) মোট ৮.৩ কিলোমিটার সীমান্ত পরীক্ষামূলকভাবে 'ক্রাইম ফ্রি জোন' ঘোষণার প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। বিজিবি ও বিএসএফ এর সর্বাত্মক প্রচেষ্টা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও উদ্যোগের ফলে ওই সীমান্ত এলাকা 'ক্রাইম ফ্রি জোন' হিসেবে ঘোষণা করা সম্ভব হতে যাচ্ছে।
 
'ক্রাইম ফ্রি জোন' ঘোষিত সীমান্তের বাংলাদেশ অংশে কার্যকরভাবে অপরাধ প্রতিরোধের লক্ষ্যে বিজিবি'র উদ্যোগে ইতিমধ্যে বিভিন্ন প্রকারের বর্ডার সার্ভেইল্যান্স ডিভাইস যেমন-ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা, সার্চ লাইট, থার্মাল ইমেজার ইত্যাদি স্থাপন করা হয়েছে। একইসাথে বিজিবি'র উদ্যোগে সীমান্তে অপরাধ প্রতিরোধে স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করা হচ্ছে।
 
'ক্রাইম ফ্রি জোন' এর মধ্যে আন্ত সীমান্ত অপরাধ যেমন-চোরাচালান, নারী ও শিশু পাচার, মানব পাচার, মাদক, অস্ত্র ও বিস্ফোরক পাচার এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড যাতে সংঘটিত না হয় সে লক্ষ্যে বিজিবি ও বিএসএফ পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি বলবত রাখবে। এছাড়া নিজ নিজ দেশের স্থানীয় প্রশাসন এবং সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী জনসাধারণের সহযোগিতায় সীমান্তে অপরাধে জড়িতদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে ফিরিয়ে এনে কর্মসংস্থানের যথাসাধ্য ব্যবস্থা করা হবে। পর্যায়ক্রমে সীমান্তের অন্যান্য এলাকায় 'ক্রাইম ফ্রি জোন' ঘোষণার লক্ষ্যে বিজিবি ও বিএসএফ সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
 
ইত্তেফাক/এসএস