যশোরের বেনাপোল সীমান্ত ও শার্শা উপজেলার বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের ৮ দশমিক ৩ কিলোমিটার এলাকা প্রথমবারের মতো 'ক্রাইম ফ্রি জোন' বা অপরাধমুক্ত এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। আজ শুক্রবার দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে এ ঘোষণাটি করা হয়।
দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে যশোরের শার্শা সীমান্তের বিপরীতে ভারতের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বনগাঁও সীমান্তে ৬৪ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কল্যাণী বিওপি এর দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় ওই 'ক্রাইম ফ্রি জোন' উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যশোর-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন, ভারতের লোকসভার এমপি (বনগাঁও) শ্রীমতি মমতা ঠাকুর, পশ্চিমবঙ্গের বিধায়ক (বনগাঁও-উত্তর) শ্রী বিশ্বজিত দাস, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন, বিএসএফ মহাপরিচালক শ্রী কে কে শর্মা, বিজিবি ও বিএসএফ এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং দুই দেশের স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে ভারতের নয়াদিল্লীতে অনুষ্ঠিত বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধের কৌশল হিসেবে সীমান্তের অপরাধ প্রবণ এলাকা 'ক্রাইম ফ্রি জোন' ঘোষণার প্রস্তাব উত্থাপন করেন। বিএসএফ মহাপরিচালক শ্রী কে কে শর্মা এই প্রস্তাবের প্রশংসা করেন এবং 'ক্রাইম ফ্রি জোন' বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বৈঠকে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
'ক্রাইম ফ্রি জোন' এর মধ্যে আন্ত সীমান্ত অপরাধ যেমন-চোরাচালান, নারী ও শিশু পাচার, মানব পাচার, মাদক, অস্ত্র ও বিস্ফোরক পাচার এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড যাতে সংঘটিত না হয় সে লক্ষ্যে বিজিবি ও বিএসএফ পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি বলবত রাখবে। এছাড়া নিজ নিজ দেশের স্থানীয় প্রশাসন এবং সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী জনসাধারণের সহযোগিতায় সীমান্তে অপরাধে জড়িতদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে ফিরিয়ে এনে কর্মসংস্থানের যথাসাধ্য ব্যবস্থা করা হবে। পর্যায়ক্রমে সীমান্তের অন্যান্য এলাকায় 'ক্রাইম ফ্রি জোন' ঘোষণার লক্ষ্যে বিজিবি ও বিএসএফ সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
ইত্তেফাক/এসএস
