বগুড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৫০ বছর পূর্তি

আপডেট : ১০ মার্চ ২০১৮, ১৭:৪০
বর্ণিল আয়োজনে উত্তরাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বগুড়া সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ১৫০ বর্ষপূর্তি উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনীর অয়োজন করেন সাবেক শিক্ষার্থীরা। বর্ণিল সাজে সাজানো হয় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণসহ বিদ্যালয়ের সামনের সড়ক। আনন্দ শোভাযাত্রা, কেক কাটা, স্মৃতিচারণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন ছিল দিনভর। সবকিছু ছাপিয়ে এই আয়োজন রূপ নেয় নবীণ প্রবীণ শিক্ষার্থীদের মিলন মেলায়। 
 
শনিবার সকালে স্কুল প্রাঙ্গণে দিনভর অনুষ্ঠিত হয় এই উৎসব। শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় স্কুল প্রাঙ্গণ থেকে প্রায় ২ হাজার নতুন ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং স্কুলের শিক্ষকদের অংশগ্রহণে বিশাল বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়। সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা নাচ, গান ও ভেপু বাজিয়ে শোভাযাত্রাকে আকর্ষণীয় করে তোলেন। শোভাযাত্রাটি শহে জলেশ্বরীতলা, সাতমাথা, থানারোড হয়ে পুনরায় স্কুল মাঠে এসে শেষ হয়। সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা নাচ, গান ও ভেপু বাজিয়ে শোভাযাত্রাকে আকর্ষণীয় করে তোলেন। শোভাযাত্রাটি জলেশ্বরীতলা, সাতমাথা, থানারোড হয়ে স্কুল মাঠে এসে শেষ হয়।
 
পরে স্কুল প্রাঙ্গণে প্রতিষ্ঠানের দেড়শ’ বছরের ফলক উন্মোচন ও উৎসবের উদ্বোধন করেন স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থী জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেক। এসময়  সম্মানিত অতিথি ছিলেন- অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরক্ত সচিব আফরিন আরা বেগম, বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. নূরে আলম সিদ্দিকী, মাধ্যমিক ও শিক্ষা বিভাগের রাজশাহী অঞ্চলর উপ- পরিচালক ড. শরমিন ফেরদৌস চৌধুরী। অনুষ্ঠানে ১৫০ বর্ষপূর্তি  উৎসব উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক স্কুলের ১৯৬৩ ব্যাচের প্রাক্তণ ছাত্রী রওশন আরা বেগম, প্রতিষ্ঠানের বর্তমান প্রধান শিক্ষিকা রাবেয়া খাতুন। 
 
এছাড়াও দিনব্যাপী স্মৃতিচারন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়। এদিকে আয়োজনকে বর্ণিল করতে বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা গত কয়েকদিন ধরে দিনরাত স্কুলের সাজ সজ্জায় কাজ করেছে। রাত থেকে জেগে রং তুলির আঁচড়ে স্কুলের সামনের রাস্তায় আলপনা এঁকেছে শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে মূল মঞ্চ তৈরিসহ পুরো স্কুলকে বর্ণিল সাজে সাজিয়ে  স্কুলের দেড়শ’ বছর পূর্তিকে স্মরণীয় করতে সবকিছুই করেছে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। উৎসবে স্কুলের ১৯৪৮ সালের এসএসসি ব্যাচ থেকে শুরু করে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাচের প্রায় ২ হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।
IMG0
উৎসবে যোগ দেয়া সরকারি চাকুরীজীবী সোহেরী নাছরীন লীনা, বিয়াম মডেল স্কুলের শিক্ষিকা   মমতাজ পারভীন সীমা, শিক্ষার্থী সৈয়দা তাহমিনা পারভীন শ্যামলী জানান, কেক কাটা , স্মৃতিচারন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ দিনভর নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। প্রায় ২ হাজার নতুন ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের পদচারনায় মুখর হয়ে উঠেছে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। দেশের ও প্রবাসে থাকা শিক্ষার্থীরা দেড়শ’ বছর পূর্তি উৎসবে যোগ দিতে বগুড়ায় এসেছে। সবকিছু ছাপিয়ে এটি একটি মহামিলন মেলায় পরিণত হয়েছে। সেইস্কুল জীবনের সহপাঠীদর সাথে অনেকদিন পর প্রাণ খুলে কথা বলতে পারা, স্কুল জীবনের ওইসব মধুর দিনগুলো আজ যেন ফিরে এসেছে। প্রাণের টানে মায়ার বাঁধনে আজ আবার সবাই একসাথে মিলিত হতে পারার আনন্দটাই যেন আলাদা। যা ভাষায় প্রকাশ করা যাবেনা।
 
স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদিয়া তাসমিন জানায়, এক অন্যরকম উৎসবে মেতে উঠেছে শিক্ষার্থীরা। প্রবীণদের সাথে দেড়শ’ বছর পূর্তি উৎসবে সাক্ষী হয়ে থাকতে পারা এই প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের কাছে আনন্দের পাশাপাশি গৌরবের।
 
প্রসঙ্গত, বগুড়া সরকারি বালিকা বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৬৯ সালে। ব্রিটিশ আমলে মহারানী ভিক্টোরিয়া এই স্কুল সফরে এলে স্কুলটির নামকরণ করা হয় ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল স্কুল (ভি.এম স্কুল)। পরবর্তীতে ১৯৬২ সালে স্কুলটির নাম পরিবর্তন করে বগুড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় করা হয়। তবে এখনও ভি. এম স্কুল নামেই স্কুলটি জেলাবাসীর কাছে অতি পরিচিত। এই স্কুলটি বরাবর ভালো ফলাফলের কারণে এ অঞ্চলের নারী শিক্ষার অন্যতম প্রধান শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।  
 
ইত্তেফাক/এমআই