মিয়ানমার ও শ্রীলংকায় মুসলিম বিদ্বেষ একই সূত্রে গাঁথা

আপডেট : ১১ মার্চ ২০১৮, ০১:০২


শ্রীলঙ্কার ক্যান্ডিতে মুসলমান এবং তাদের বাড়িঘরে হামলার বিষয়ে উসকানি দিয়েছে মিয়ানমারের একজন বৌদ্ধ নেতা। অসিন উইরাথু নামের ওই ধর্মীয় নেতা শ্রীলঙ্কায় গিয়ে সেখানকার বৌদ্ধদের মুসলমানদের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলেছেন। শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোর একটি স্টেডিয়ামে তিনি বৌদ্ধ জমায়েতের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘মুসলমানদের বিতাড়িত করতে না পারলে এই অঞ্চল তারা একদিন দখল করে নেবে। কারণ মুসলমানরা সন্তান উত্পাদন করছে বেশি, বৌদ্ধ মেয়েদের বিয়ে করছে, সর্বোপরি বৌদ্ধ ধর্মের উপর আক্রমণ চালাচ্ছে।’

মিয়ানমারের সাম্প্রতিককালে রোহিঙ্গা মুসলমানদের উপর যে নিপীড়ন চলেছে তার পেছনে অসিন উইরাথুর সংগঠন ‘৯৬৯’ এর হাত রয়েছে বলে গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। বিভিন্ন বার্তা সংস্থার খবরে দেখা যায়, অসিন উইরাথু মুসলমান বিরোধী প্রচারণা জোরদার করার লক্ষ্যে তার সংগঠন ‘৯৬৯’ এবং ‘বৌদ্ধ রক্ষায় শ্রীলঙ্কান গ্রুপ’ একসাথে কাজ করতে পারে বলে অভিমত দেন। শ্রীলঙ্কান সংগঠনটির নেতৃত্বে রয়েছেন বুদুবালা সেনা। দুই বছরের মধ্যে ওই সংগঠনটির পতাকাতলে কয়েক হাজার বৌদ্ধ যুবক সমবেত হন।  কলম্বো স্টেডিয়ামে উইরাথু তার বক্তব্যে বলেছিলেন, বৌদ্ধরা সারাবিশ্বেই সংখ্যালঘু। আমরা যদি এদের রক্ষা করতে না পারি তা হলে একদিন আমরা শেষ হয়ে যাব। এই লক্ষ্য অর্জনে দুটি সংগঠনের একসঙ্গে কাজ করা উচিত। সেখানে শ্রীলঙ্কান বৌদ্ধ নেতা বুদুবালা সেনা বলেন, শ্রীলঙ্কার মুসলিমরা মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশ হলেও সংখ্যা বাড়ানোর জন্য তারা বেশি বেশি সন্তান উত্পাদন করছে। বৌদ্ধ নারীদের বিয়ে করছে। এতে করে শ্রীলঙ্কার বৌদ্ধরা এক সময় সংখ্যালঘু হয়ে যাবে।

শ্রীলঙ্কার ক্যান্ডিতে জরুরি অবস্থার মধ্যেও মুসলমানদের বাড়িঘরে হামলা, আগুন দেওয়া এবং নির্যাতনের পেছনে সেখানকার উগ্রবাদী বৌদ্ধ নেতাদের হাত রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। চারদিন ধরে চলা বৌদ্ধ-মুসলিম দাঙ্গায় শ্রীলঙ্কায় মুসলমানদের মালিকানাধীন দুই শতাধিক বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ১১টি মসজিদ সহিংসতার শিকার হয়েছে। এ ছাড়া নিহত হয়েছে ৩ জন আর আহত হয়েছে ২০ জন মানুষ।

গত বছর থেকেই শ্রীলঙ্কায় সংখ্যালঘু মুসলিমদের ওপর উগ্র বৌদ্ধরা হামলার চেষ্টা করছিল। গত ৫ মার্চ ক্যান্ডিতে নতুন করে মুসলিম মালিকানাধীন একটি দোকানে সংখ্যাগরিষ্ঠ সিংহলি বৌদ্ধরা অগ্নিসংযোগ করলে দাঙ্গা শুরু হয়। দাঙ্গায় আহত এক বৌদ্ধের মৃত্যুর পাশাপাশি পুড়ে যাওয়া ভবন থেকে এক মুসলিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি অবস্থা জারির পাশাপাশি মোতায়েন করা হয় সেনাবাহিনী। বুধবার এক গ্রেনেড হামলায় একজন নিহত হওয়ার পর জরুরি অবস্থা জারি করে শ্রীলঙ্কা।

কাতারভিত্তিক নিউজ চ্যানেল আল জাজিরা এ হামলার পেছনে শ্রীলঙ্কার বৌদ্ধ উগ্রবাদীদের হাত রয়েছে বলে জানিয়েছে। এ সব উগ্রবাদী সরাসরি বুদুবালা সেনার সমর্থক। যার শেকড় রয়েছে মিয়ানমারের উগ্র ধর্মীয় নেতা অসিন উইরাথুর সঙ্গে।

ইত্তেফাক/নূহু