মাদক সেবনে বাধা দেয়ায় বন্ধুর হাতে খুন

আপডেট : ১১ মার্চ ২০১৮, ১২:০৩
মোবাইল ফোনে বন্ধু স্বপনকে ডেকে নিয়ে খুন করেছে অপর বন্ধুরা। নিহতের বাবা ওই বন্ধুদের আড্ডা ও মাদক সেবনে বাধা দেয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ নিহতের পরিবারের। নিহত স্বপন (১৭) স্থানীয় গংগাপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জয়া গ্রামের আলাউদ্দিন হাওলাদারের ছেলে। পেশায় রাজমিস্ত্রির সহযোগী। স্থানীয় জেলেদের সহযোগীতায় ঘটনার ১১দিন পর শনিবার বিকালে থানা পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করেন।
 
নিহতের বাবা আলাউদ্দিন, স্থানীয় ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গংগাপুর ইউনিয়নের জয়া গ্রামে স্বপনদের বসবাস। রাজ জুগালির কাজ করতেন। একই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আব্বাস মাতাব্বর ও মোকছেদ আকন্দ তার সঙ্গে মাঝে মধ্যে একই কাজ করতেন। 
 
নিহতের বাবা জানান, স্বপনের বন্ধুদের চলাফেরা তার পছন্দ হতো না। এ জন্য ছেলের বন্ধুদেরকে তার (স্বপনের) সঙ্গে চলতে নিষেধ করেন। ঘটনার কয়েকদিন আগে মোবাইল ফোনে জানেন, ছেলে ও তার বন্ধুরা মাদক সেবন করছে। ওই স্থানে গিয়ে তিনি তাদেরকে বকাবকি করেন।এতে ক্ষুদ্ধ হয় স্বপনের বন্ধুরা। ওই সময়েই নিহতের বাবাকে দেখে নেবার হুমকি দেন তারা। ২৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় বন্ধুরা ডেকে নেয় স্বপনকে। সন্ধ্যার পরও তারা তেতুলিয়া নদীর কাছাকাছি এলাকায় আড্ডা দিয়েছিল। রাত ১০টায় বাসায় না ফিরলে স্বপনের বাবা ফোন দিয়ে তার ফোন বন্ধ পান। এরপর শুরু হয় খোঁজাখুঝি। এলাকায় মাইকিং ও করা হয়। নিহতের বাবা স্থানীয় থানায় বিষয়টি ডায়েরিভুক্ত করেন।
 
৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার কালাম বর্দ্দার ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের এরশাদ জানান, নিহতের বাবা বিষযটি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ গন্যমান্যদের জানালে ওই বন্ধুদের ডেকে তিন দিনের মধ্যে স্বপনের সন্ধান দিতে বলেন। এরপরই আত্নগোপন করেন বন্ধুরা। শনিবার বিকালে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে স্থানীয় হাঁসের চরে জেলেরা লাশ দেখতে পান। খবর দেন তাদের। পরে স্থানীয় থানার এসআই অশোক কুমার ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেন।
 
বোরহানউদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জ অসিম কুমার সিকদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার দিন  ওই বন্ধুরা মিলে রাত ৯টা একটি ব্রিজের উপর আড্ডা দিয়েছিল। এরপর থেকে নিখোঁজ। ওরা মাদক সেবীও ছিল। মাদক ও পূর্ব শত্রুতাসহ এমন একাধিক বিষয়কে সামনে নিয়ে তদন্ত চলছে। তিনি আরো জানান, নিহতের স্বপনের বাবা স্থানীয় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
 
ইত্তেফাক/কেকে