শিক্ষার্থীদের কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই অনেক সময় এমন কিছু করে বসেন যা কিনা বিশ্ববাসীকে বিস্মিত করে। প্রথমে যে কেউ এসব শিক্ষার্থীর কাজকে হেসে উড়িয়ে দিতে পারে। কিন্তু কখনো কখনো সেটি-ই মানুষকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। এই ধরনের অসম্ভব বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য এলজি’ প্রবর্তন করেছে ‘দ্য এলজি নোবেল প্রাইজ’। গত বছর বিজ্ঞানীরা এমন একটি কলম তৈরির কথা জানিয়েছিল যেটি কিনা সার্জারির সময় মাত্র ১০ সেকেন্ডের মধ্যে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষ শনাক্ত করতে সক্ষম। টিউমারকে পুরোপুরি নির্মূল করতে ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যুগুলোকে খুঁজে বের করার এই বিশেষ কলম কোটি কোটি মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে। ‘মাসস্পেক পেন’ নামে পরিচিত এই কলমটি প্রাথমিকভাবে প্রায় ৯৬ শতাংশ নির্ভুলভাবে ক্যান্সার আক্রান্ত ও সুস্থ টিস্যুর মধ্যে পার্থক্য করতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের নিয়ে এমনই একটি প্রদর্শনী ‘গ্লোবাল গ্রাড শো’ অনুষ্ঠিত হয়ে গেল দুবাইতে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই ধরনের প্রদর্শনীর মাধ্যমে মাঝেমধ্যে এমন কোনো আইডিয়া বের হয়ে আসতে পারে যা কিনা যুগান্তকারী কোনো আবিষ্কারের পথ তৈরি করবে। মূলত শিক্ষার্থীদের করা এই ধরনের কিছু নকশাই ভবিষ্যতে বিজ্ঞানীদের ভিন্ন ধরনের আবিষ্কারের জন্য উদ্বুদ্ধ করতে পারে।
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ১০০’র বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন দুবাইয়ের এই প্রদর্শনীতে। পেশা জীবনের বাণিজ্যিক চাপমুক্ত থাকার কারণে এই শিক্ষার্থীদের সামনে সুযোগ রয়েছে সৃষ্টিশীল চিন্তা করার। সমকালীন সমাজ, চিন্তা-ধারার সাথে পরিচিত এই প্রজন্মের প্রতিনিধিরা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য এবং জীবন মান উন্নয়নে দারুণ সব উদ্ভাবনী দিয়ে চমকে দিতে পারে। এক্ষেত্রে তারা পরিবেশ পরিস্থিতিকে বোঝার পাশাপাশি চারপাশের বৈচিত্র্য, সমস্যা-সুবিধা সবকিছুকে মাথায় নিয়েই তারা তাদের কাজটি করতে সক্ষম। আয়োজকদের মতে, বর্তমান বিশ্ব নেতৃবৃন্দের বেশিরভাগেরই বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার মতো যথেষ্ট জ্ঞানের অভাব রয়েছে। কিন্তু নতুন প্রজন্ম এই সব সমস্যাকে বেশ ভালোভাবে বিবেচনায় রেখেই নতুন উদ্ভাবন করার পথ তৈরি করতে পারেন। রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতার বাইরে থেকেও শুধুমাত্র দায়িত্ববোধের থেকে এসব তরুণ আগামী দিনের প্রয়োজনীয় সব যন্ত্রপাতি তৈরির জন্য মেধাকে কাজে লাগাবে। আর তাদের তৈরি করা নকশা থেকে ধীরে ধীরে বিজ্ঞানীরা তৈরি করবে পৃথিবী রক্ষাকারী সব যুগান্তকারী সব যন্ত্রপাতি কিংবা প্রযুক্তি।
২০১৮ সালের ‘গ্লোবাল গ্রাড শো প্রোগ্রেস প্রাইজে’ বিজয়ী হয়েছেন ডিজাইন একাডেমি এইনদোভেনের শিক্ষার্থী মিরজাম ডে ব্রুজিন ‘গৃহপণ্য জলশূন্য’ করার একটি নকশা তৈরি করেন তিনি। পুনব্যবহারযোগ্য দুটি বোতলকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় কাজে লাগিয়ে কীভাবে এটি করা যায় তার নকশাই তিনি তৈরি করেছেন। ‘টোয়েন্টি’ নামের তার এই নকশাটি ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি প্রতিযোগিতায় পুরস্কার জিতেছে। আগামী প্রজন্মের জন্য তৈরি তার এই পরিবেশবান্ধব নকশা অদূর ভবিষ্যতের বাজারে জায়গা করে নেবে। এই ধরনের প্রদর্শনীর মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে আগামী দিনের উপযোগী বিভিন্ন প্রযুক্তির জন্য তরুণদের থেকে নকশা বের করে আনা।-সিএনএন
ইত্তেফাক/আরকেজি
