ইত্তেফাকে সংবাদের কারণে বিচার পেতে চলেছে একটি অসহায় পরিবার

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০১৮, ১৭:৩৬

আলমডাঙ্গার তিয়রবিলা গ্রামের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধর্ষণের পর অবশেষে তার গর্ভপাত ঘটানো এবং ওই ছাত্রীর পরিবারকে আটকে রাখার ঘটনায় অবশেষে থানায় মামলা হয়েছে। সোমবার বিকেলে মেয়েটির পিতা আজমত আলী থানায় এসে ধর্ষক কাশেমের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। অসুস্থ অবস্থায় তিনদিন আটক থাকার পর মেয়েটিকেও চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। গত রবিবার ইত্তেফাকে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে প্রশাসন পরিবারটির পাশে দাঁড়ায়।

অভিযোগে বলা হয়, তিয়রবিলা গ্রামের ইব্রাহীমের ছেলে লম্পট কাশেম (৫০) প্রায় ৯ মাস যাবৎ ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করে আসছিল। মেয়েটি কাশেমের ভয়ে বাড়ির কাউকে কিছু জানায়নি। কিন্ত তার শারীরিক পরিবর্তনে সব জানাজানি হয়ে যায়। মেয়েটিকে জোরপূর্বক ঝিনাইদহে নিয়ে গর্ভপাত ঘটায় কাশেমের বড় ভাই মনিরুজ্জামান। হাসপাতালে মেয়েটি একটি জীবিত কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়। কিন্ত মেয়েটিকে মায়ের কোল থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় কাশেমের বড় ভাই মনিরুজ্জামান। হাসপাতালে তিনজন নার্স এ কাজে মনিরুজ্জামানকে সহযোগীতা করেন। এরপর ধাক্কা দিয়ে মেয়ে ও তার মাকে হাসপাতাল থেকে বের করে দেয়া হয়।

প্রচুর রক্তক্ষরনে অসুস্থ মেয়েটি তিনদিন ধরে বাড়িতে স্যালাইনের ওপর ভরসা করে চিকিৎসা নিয়ে আসছিল। ইত্তেফাকে সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় এলাকায় তোলপাড় ওঠে। থানা পুলিশ মেয়েটির বাড়িতে যায়। তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করানোর ব্যবস্থা করা হয়। থানায় কাশেম ও তার বড় ভাই মনিরুজ্জামানকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়।

এ ব্যাপারে তিয়রবিলা ক্যাম্পের আইসি মিজানের কাছে ইত্তেফাকের পক্ষ জানতে চাওয়া হয়, তিনদিন ধরে ওই পরিবারের পক্ষে আপনি কি ভুমিকা রেখেছেন? তিনি এর কোন সদুত্তোর দিতে পারেননি।

তবে থানার অফিসার ইনচার্জ আবু জিহাদ খান ইত্তেফাককে জানান, আমরা ঘটনা জানার পর পুলিশ পাঠিয়ে মেয়ের বাবাকে থানায় নিয়ে আসি। অসুস্থ মেয়েটিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করি। ধর্ষক কাশেম ও তার ভাই মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাদের গ্রেফতারের জোর চেষ্টা চলছে।

ইত্তেফাক/নূহু