আলুর ভালো ফলন হলেও দাম কম আর ক্রেতা না থাকায় রাজশাহীর তানোরে আলু নিয়ে বিপাকে পড়েছে চাষিরা। গত বছর আলুতে মার খাওয়ার পর কৃষকরা এ বছর লোকসান পুষিয়ে নিতে ধার-দেনা করে আলু চাষ করে। কিন্তু বিধি বাম। এবারেও মাথায় হাত। বর্তমানে আলু তোলার উপযুক্ত সময়। আলু তোলার পর ওই জমিতে কৃষকরা বোরো ধান লাগাবে।
কৃষকরা জানায়, এ বছর দীর্ঘমেয়াদি কুয়াশা ও শীতের কারণে আলু ক্ষেতে পচন দেখা দিলেও সময় মত পরিচর্চার জন্য আলুর ফলন ভালো হয়েছে। যদিও রোগ সারাতে কৃষকদের উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে বহুগুণে।
উপজেলার সিন্দুকাই গ্রামের কৃষক আশিকুল ইসলাম জানান, এ বছর আলুর ফলন ভালো হলেও দাম কম। ৭বিঘা জমিতে আলু করেছি। প্রতি বিঘায় উৎপাদন খরচ বাদে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে। আগামীতে আর আলু চাষ করার ইচ্ছে নেই।
উপজেলার সরনজাই কাজীপাড়া গ্রামের আলু চাষি আনোয়ার সাদাত জানান, এ বছর ১০ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছি। আলু দাম ও ক্রেতা না থাকার কারণে আলু নিয়ে বিপাকে পড়েছি। বর্তমানে বাজারে গ্রানুলা জাতের আলু ৪শ' টাকা, কার্ডিনাল জাতের আলু ৬শ' টাকা, লরা ৫শ' টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ১৩ হাজার ৫শ' হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়েছে। যা গত বছরের চেয়ে ৫হাজার হেক্টর বেশি। উপজেলা কৃষি অফিসার শফিকুল ইসলাম বলেন, 'তুলনামূলকভাবে এবছর আলুর ফলন ভালো হয়েছে। সে তুলনায় দাম কম। আলুভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলতে হবে যাতে কৃষক তার আলুর ন্যায্য মূল্য পান।'
ইত্তেফাক/এসএস
